বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রসর প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ’বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী’র সাবেক সব নেতাকর্মীকে একসঙ্গে করে তাদের মধ্যে বন্ধন আরো দৃঢ় করার ডাক দিয়েছেন ছাত্র মৈত্রীর সদ্য সাবেক হওয়া সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু। বুধবার ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আহ্বানের কথা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছাত্র সংগঠন ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য আরও বলেন, মৈত্রী পরিবারের সকল সদস্যকে একত্রিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। তাদের কেউ রাজপথে স্লোগান দেবেন, কেউ ডাক্তারি করে এ পরিবারের সেবা দেবেন, কেউ অর্থের জোগান দেবেন, কেউ ছবি অাঁকবেন, পোস্টার বানাবেন, কেউ এই রাজনীতির জন্য কবিতা লিখবেন, কেউ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করবেন। এভাবেই বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের বিশাল পরিবার ভূমিকা রাখবে। আর এর মধ্য দিয়েই আমাদের প্রিয় পার্টি সার্বিক ও সমন্বিতভাবে এগোবে।
বাপ্পাদিত্য বসু বলেছেন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী স্বনামেই তার ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে। এর আগে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) এর বহুধাবিভক্ত বিভিন্ন অংশের ইতিহাস মিলিয়ে এই সময়কালটা বহু দীর্ঘ। এই দীর্ঘ সময়ে ছাত্র মৈত্রী পরিবার থেকে হাজার হাজার কর্মী বেরিয়েছেন। তারা আজ কোথায়? নেতারা বলবেন- তারা আদর্শচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু আমি বলি- না। তাদের একটা বড় অংশই পার্টি নেতৃত্বের অনাদর-অবহেলায় ব্যক্তিজীবনে যার যার মতো করে লালিত হয়েছেন। এদের একত্রিত করা তো আজ সময়ের দাবি। নিশ্চয়ই পার্টি নেতৃত্ব সেই দাবিকে অস্বীকার করবেন না।
তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমাদের পার্টির ভূমিকা রাখার যেটুকু সুযোগ আছে, তাকে কাজে লাগাতে হলে সাবেক ছাত্র মৈত্রী পরিবারকে একত্রিত করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কমরেড নূর আহমেদ বকুল ভাই উদ্যোগ নিয়ে এই কাজটা করতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় কমরেড রাশেদ খান মেনন ভাই ও কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা ভাইকে সামনে রেখে বকুল ভাই উদ্যোগটা হাতে নিলে। মৈত্রী পরিবারের মধ্যে আমরা যারা পার্টিতে সংগঠিত আছি, তারা জোর সহায়তা দিতে পারব।
বাপ্পাদিত্য আরও বলেন, এতোদিন এই কথাগুলো অভ্যন্তরীণভাবে বলেছি বহুবার, বহুজনে। কিন্তু এই কালে এসে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আলোচনা চলতে দ্বিধা থাকার কোনো কারণ আর দেখি না।
তিনি বলেন, নেতিবাচকতা দিয়ে নয়, আসুন, আমরা সবাই ইতিবাচকতার সাথে এই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে পার্টির পক্ষে ভূমিকা রাখি। অতীতে আমরা পারি নি, কিন্তু ভবিষ্যতেও পারব না- এমনটা আমি অন্তত মনে করি না। তাই অতীতের অভাববোধগুলোকে সামনে না এনে বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে এই সমন্বিত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে পারি, আসুন, সেই আলোচনা করি। ছাত্র মৈত্রী পরিবারের এ যাবতকালের সকল সদস্যই আশা করি এই আলোচনায় অংশ নেবেন। পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব সরাসরি এখানে আলোচনায় অংশ নিতে না চাইলেও অন্তত আলোচনাটি পর্যবেক্ষণ করুন। এটা নিয়ে পার্টির ভিতরে আলোচনা করুন। আশা করি, আমরা তাতে হারব না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়েও যারা ছাত্র মৈত্রী থেকে প্রাক্তন হয়েছেন, তাদের এখনই যুব মৈত্রী, কৃষক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, নারী মুক্তি সংসদ, খেতমজুর ইউনিয়ন বা অন্যান্য গণসংগঠনের অথবা পার্টিগত অন্যান্য সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সংগঠিত করা দরকার। নিজ তাগিদ যেমন সাবেক ছাত্র নেতা-কর্মীদের থাকা দরকার, তেমনই পার্টি নেতৃত্বকেও এ নিয়ে জোর ভাবনা ভাবতে হবে।
এই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি-প্রাক্তন ছাত্র মৈত্রী-বর্তমান ছাত্র মৈত্রী পরিবারের সবার ইতিবাচক মতামত আশা করেন বলেও জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


