বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মসজিদে কোরআনের পাতা ছিঁড়ে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা: আটক ৩

quranlogoবিভিন্ন মসজিদে কুরআন শরিফের পাতা ছিঁড়ে রেখে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টার দায়ে জামায়াত-শিবিরের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সাতকানিয়ার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন- শিবিরের উপজেলা (পূর্ব) শাখার সভাপতি রায়হান উদ্দিন মুহাম্মদ আসাদ উল্লাহ, ঢেমশা ইউনিয়েনের সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম নিলয়, চট্টগ্রামে দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাথীপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম টিপু ও কর্মী মো. আরমান।

এদের মধ্যে রিয়াদুল গত মঙ্গলবার ও রায়হান বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, বলেন এসপি।

হাফিজ আক্তার বলেন, “ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে শিবিরকর্মীরা সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে কুরআন শরিফের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে রেখে তা বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচার করার অপচেষ্টা করেছিল।”

রিয়াদুল ও রায়হান এই পরিকল্পনার পেছনে থাকা জামায়াতে ইসলামীর দুজন এবং শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতার নামও প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

এসপি বলেন, “রিয়াদ জানিয়েছে, রায়হান গত ৯ জানুয়ারি ঢেমশা ইউনিয়নের ইন্দ্রার দিঘীর পাড় বড়বাড়ি মসজিদে শিবিরকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে।

“বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা দুইজন করে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে ভোর বেলা বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে কুরআন শরিফের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে রেখে আসে।”

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার যেসব স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসবাস বেশি, সে সব এলাকায় এটা ঘটানো হয়েছিল বলে চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁইয়া জানান।

তিনি বলেন, সাতকানিয়া পৌরসভা, ঢেমশা, কেউচিঁয়া, কালিয়াইশ, খাগারিয়া ইউনিয়নের ১০টি এবং লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের নয়টি মসজিদে শিবিরকর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলায় যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের শনাক্তের পর এখন গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান এএসপি এমরান।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন