আগামীতে যদি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে কে দেশদ্রোহী আর কে দেশনেত্রী- তা পরিষ্কার যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। একইসঙ্গে সরকারের ব্যর্থতার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আজ বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রত্যাহারের দাবি’তে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। হাফিজউদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপরিচলনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিদারুণভাবে ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি অন্যত্র সরাতে খালেদা জিয়া নামে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক দেশদ্রোহীতার মামলা দেয়া হয়েছে। দেশে যদি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার থাকতো, আর যদি আগামী একমাসের মধ্যে কোন কারণে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে দেখা যাবেÑ কে দেশদ্রোহী আর কে দেশনেত্রী।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই। সেদিন অন্যদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছিলেন। তিনি শহীদদের পূর্ণ সম্মান দিতে চান। আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও চাই, শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ হোক। তাদের আরও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উচ্চ সম্মান দেয়া হোক। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকারের সেই মনমানসিকতা নেই। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বেগম জিয়া এমন কি বললেন যে দেশ রসাতলে গেলো? নামগ্রোত্রহীন এক আইনজীবী তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানিদের হাতে দুটি সন্তানসহ ছয় মাস বন্দি থাকলেন, নির্যাতন ভোগ করলেন, তিনি আজ দেশদ্রোহী হয়ে গেলেন। আর যারা পালিয়ে বেড়ালো তারা হয়ে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় কালিমা লিপ্ত করতেই তার নামে দেশদ্রোহিতার মামলা দেয়া হয়েছেÑ এমন অভিযোগ করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের মিথ্যা মামলাবাজি করে বাংলাদেশে কেউ পার পাবে না। এই সরকার শেষ সরকার নয়। সুতরাং এই দুঃশাসনের হাত থেকে বাঁচতে হলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সঙ্গে নিয়ে তুমুল গণআন্দোলনের মাধ্যমে এর জবাব দেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের সমালোচনা করে মেজর হাফিজ বলেন, আইন প্রণয়ন করে কোন শ্রদ্ধা বা সম্মান পাওয়া যায় না। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে আইন করতে যাচ্ছে তা অর্থহীন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের (আওয়ামী লীগ) কারও কথা পছন্দ না হলে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে, সে যদি মুক্তিযোদ্ধাও হয়। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। যেভাবে সরকার মামলাবাজি শুরু করেছে তাতে প্রধান বিচারপতির নামে দেশদ্রোহিতার মামলা হলে মোটেও আশ্চর্য হবো না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুুল বাশার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


