যশোরের বেনাপোলে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও কোন প্রতিকার পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও ধর্ষকদের ভয়ে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে ঘটনার দু’দিন পর স্থানীয় ইউপি মেম্বার ঘটনাটির মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তাকে পাত্তা দেয়নি ধর্ষকরা। উপরন্তু বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ধর্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার রাতে যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা বাজারে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ উঠেছে, রোববার রাত ৮টার দিকে বালুন্ডা গ্রামের হারুনের ছেলে রহিম উদ্দিন রানা (২০) এবং মশিয়ার রহমানের ছেলে হাসানুজ্জামান (১৬) ও ইকবাল হোসেনের ছেলে মোর্তজা আলী (২৩) ওই গৃহবধূকে ধরে বাজারের ইবাদ আলী আড়তদারের দোকানের ছাদে নিয়ে যায়।
সরকারি দল সমর্থক ওই তিন যুবক রাতভর ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতার হাতমুখ বেঁধে ছাদের ওপর ফেলে রেখে ধর্ষকরা চলে যায়। পরদিন সকালে বাজারের ঝাড়ুদাররা ধর্ষিতার কান্না শুনে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন ইউপি মেম্বার তবিবর রহমান। কিন্তু ধর্ষকরা সেই মীমাংসায় সাড়া দেয়নি। উপরন্তু এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য মেম্বারকে শাসিয়ে আসে। থানায় মামলা করতে ভিকটিমকে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তার পরিবার।
ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক সাংবাদিককের কাছে এ ঘটনার কথা খুলে বলে বিচার প্রার্থনা করে।তাদের দাবি বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে প্রশাসনও সন্ত্রাসীদের টনক লড়বে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউপি মেম্বার তবিবার রহমান জানান, ঘটনাটি সত্য। তবে এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই। কারন ধর্ষকরা সরকারী দলের কর্মী সমর্থক। তাদের ওপরে কথা বলা সম্ভব নয়। মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তাদের বাঁধার কারনে তা ভেস্তে গেছে বলে তিনি জানান । তিনি আরো জানান, ধর্ষিতার বাবাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তারা যাতে থানায় গিয়ে মামলা করতে না পারে, সেজন্য ধর্ষকরা ও এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধার সৃষ্টি করছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে পুটখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল গাফফার সর্দার বলেন, এ রকম কোন ঘটনার খবর তার জানা নেই। যদি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এ বিষয়ে তার কাছে বিচার দাবি করেন তাহলে তিনি ঘটনাটি সত্য হলে দোষীরা যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হোক না কেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনা বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনার খবর তার জানা নেই। কোন মহল থেকে বিষয়টি তাকেও জানানো হয়নি। তবে দেরিতে হলেও যদি এ ঘটনায় কেহ মামলা করতে চায় তাহলে আমরা তার মামলাটি রেকর্ড করে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অভিযোগ না পেলেতো পুলিশের কিছু করার থাকে না। পুলিশ তো হাওয়ার ওপর কাজ করবে না।


