গ্রুপের শীর্ষে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক নামিবিয়া। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ও দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি নামিবিয়ার ব্যাটিং। রান তাড়ার শুরুতে হোঁচট খেলেও ছোট লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে গেছে অনায়াসেই। তাই প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় দুপুর সাড়ে ১২টা। কিন্তু তার আগে পুরো ম্যাচই শেষ!
কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার নামিবিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে নামিবিয়াকে ৬৫ রানেই গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সেই রান তাড়া করে স্বাগতিকরা জিতে যায় ১৬ ওভারেই।
প্রথমবার সেমি-ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
নামিবিয়ার প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে ইঙ্গিত ছিল বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে স্বাগতিকদের স্পিনের জবাবই খুঁজে পেল না আইসিসির সহযোগী দেশটি। আর হাঁসফাঁস করতে থাকা ব্যাটসম্যানদের আরও বিপদে ফেলে বাংলাদেশের দুর্দান্ত ক্যাচিং ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং।
সকালে প্রথম ব্রেক থ্রুটা অবশ্য দিয়েছিলেন একজন পেসার। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দুই পেসার আব্দুল হালিম ও মোহামমদ সাইফুদ্দিন একটু সময় নিয়েছেন লাইন ও লেংথ খুঁজে পেতে। তবে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রেক থ্রুর জন্য।
চতুর্থ ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন সাইফুদ্দিন। গালিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে এসজে লফটি-ইটনের ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশের পরের উইকেটটিও এসেছে অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে। গালি থেকে দারুণ থ্রোতে উইকেট ভেঙেছিলেন আরিফুল ইসলাম, ব্যাটসম্যান তখনও ক্রিজে। কিন্তু রান নিতে ছুটেছিলেন ওভারথ্রোতে। ছুটে গিয়ে উইকেটকিপার জাকির হাসান গুলির বেগে সরাসরি থ্রোয়ে আউট করেছেন নামিবিয়ান অধিনায়ক জেন গ্রিনকে।
নামিবিয়ার ইনিংসের একমাত্র দু অঙ্কের জুটি এসেছে এরপরই। তৃতীয় উইকেটে ২৭ রানের জুটি গড়েন নিকো ড্যাভিন ও লোহান লরেন্স। দুর্দান্ত এক আর্ম ডেলিভারিতে ড্যাভিনকে (১৯) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সালেহ আহমেদ শাওন। এরপর থেকে শুধুই ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া।
কুইকার ডেলিভারিতে মাইকেল ফন লিনজেনকে এলবিডব্লিউ করে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই উইকেট নেন অফ স্পিনার সাঈদ সরকার, মিড উইকেটে আরেকটি রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন শান্ত।
নামিবিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নায়ক লরেন্স লড়াই করছিলেন আবারও। কিন্তু নিজের প্রথম ওভারেই দ্রুতগতির এই সোজা বলে লরেন্সকে (১৭) বোল্ড করেন আরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনারকে পরে দ্বিতীয় উইকেট উপহার দেয় সিলি মিড অনে পিনাক ঘোষের দুর্দান্ত ক্যাচ।
নামিবিয়া ইনিংসের শেষটিও বাংলাদেশ দলে জন্য আসে দারুণ এক উপলক্ষ হয়ে। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটি নিজের করে নেন মিরাজ। ৩২.৫ ওভারে নামিবিয়া অলআউট ৬৫ রানে।
যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এর চেয়ে ছোট ইনিংস আছে আর একটিই। সেটিও নামিবিয়ারই, ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে তারা গুটিয়ে গিয়েছিল ৫৭ রানে।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই পিনাক ঘোষকে হারায় বাংলাদেশ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হলেন তিনি। এবার তিনি ফিরেছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল পয়েন্টের হাতে তুলে দিয়ে। ৮ রান করে কটবিহাইন্ড আরেক ওপেনার সাইফ হাসান।
জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে এরপর আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশকে। তৃতীয় উইকেটে রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন জয়রাজ, ১৪ রানে শান্ত।
টান তিন জয়ে শিরোপা স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। কোয়ার্টার-ফাইনালেও পেল কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ। অধিনায়ক মিরাজ আগেই বলে রেখেছিলেন, শেষ আটে নেপালকে পাওয়া মানেই সেমি-ফাইনালে এক পা!


