শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

মেয়র আনিসুল হকের বিরুদ্ধে কেন ক্ষেপেছে কাউন্সিলররা?

anisul-hoq_9551ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সোমবার সন্ধ্যায় এই কাউন্সিলররা রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় একটি রেস্তোরাঁয় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে ‘সরকারি চাপে’ তা সম্ভব হয়নি।

একজন সরকারি কর্মকর্তা তাদেরকে কোনো সভা না করার অনুরোধ করেন বলে কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন।

এদিকে বৈঠকের প্রধান উদ্যোক্তা কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বারবার ফোন করার পরও তিনি তা ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি। এই বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি মেয়র আনিসুল হকেরও।

মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজানসহ কয়েক কাউন্সিলর এই সভার উদ্যোক্তা বলে তারা জানান।

সভায় আমন্ত্রিত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির বলেন, “কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না। না গেলে কইবো, এ মেয়রের চামচা। আর গেলে কইব, আমার বিরুদ্ধে এই কর সেই করো। সমস্যার শেষ নাই।”

নিজেদের মইধ্যে আলোচনা করতে কাউন্সিলররা একসঙ্গে বসতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “সব কমিশনার তো পঙ্গু হইয়া রইছে।

“এলাকায় কোনো কাম-কাজ নাই। কিচ্ছু নাই। এলাকায় গেলে মানুষ পিডাইবার চায়। কয়, কমিশনার বানাইছি, শালা চোর। কোনো কাম করে না।”

কখন থেকে মেয়রের সঙ্গে কাউন্সিলরদের বিরোধ-এ প্রশ্নে নাছির বলেন, “না ঝামেলা নাই। আসলে আমরা কোনো মূল্যায়ন পাই না। একজন কমিশনার হইছে, অনেক পয়সা খরচ করছে। পার্টির জন্য কাজ করতে চায়। পার্টির পোলাপানরে কাজে লাগাতে চায়। কিন্তু আমরা তো পঙ্গু হইয়া আছি।”

একই মনোভাব পোষণকারী কমিশনারদের সংখ্যা কেমন- জানতে চাইলে তিনি বলে ওঠেন, “সবাই সবাই। উত্তরের সব কমিশনার একই সমস্যায় পড়ছে।”

এদিকে নিজেকে ‘মেয়রের কাছের লোক’ পরিচয় দেওয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরী  বলেন, “আমার সাথে সম্পর্ক ভালো, আমি এতটুকু জানি। কারও সাথে সম্পর্ক খারাপ থাকলে সেটা আমি জানি না।”

মেয়র আনিসুলকে ‘অনেক ভালো লোক’ অভিহিত করে ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই সভাপতি  বলেন, “উনি তো রাজনীতি করে আসেন নাই। উনি ব্যবসায়ী লোক। উনি বুইঝা উঠার কথা না। বুঝতেও সময় লাগবে। বেসিক্যালি ভালো লোক। তবে রাজনীতি করেন নাই তো, রাজনৈতিক নেতাদের কিছু চাপ থাকতেই পারে। এখানে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তারা এখানে আসে, যারা এখানে দীর্ঘদিন আছেন, তাদের একটা চাহিদা থাকতেই পারে।”

মেয়র আনিসুলকে সবাই চিনতে পারেননি দাবি করে মোবাশ্বের বলেন, “তার কাছে সবাই যায়ও না। উনি জাস্ট নগর ভবনে থাকেন। মিরপুরের একজনের ‍গুলশানে যাওয়া কঠিন।

“এ পর্যন্ত ৮-৯ মাসে নগর ভবনে আমিই গেছি মাত্র চার দিন। আমার তো সমস্যা হওয়ার কথা না। তিন দিন মিটিংয়ে গেছি। আরেকদিন উত্তরায় একটা মিটিংয়ের পর তার সঙ্গে গিয়েছি।”

মেয়র অনেক কাজ করছেন দাবি করে এই কাউন্সিলর বলেন, “সিটি কর্পোরেশনে অনেকগুলো বিভাগ। এই বিভাগগুলো চালান, সাথে ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি প্রচুর সময় দিচ্ছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা এবং যানজট এগুলোর ব্যাপারে তাকে প্রচুর সময় দিতে হয়। তিনি সাত দিনের সাত দিনই অফিস করেন। এত কাজ করে তিনি হাঁপায়া উঠেন।”

“কাউন্সিলররা যদি আমরা তাকে ডিস্টার্ব করি, তাহলে তো তিনি কাজ করতে পারবেন না,” বলেন মোবাশ্বের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক কাউন্সিলর বলেন, “নয় মাস হল কোনো উন্নয়ন হয়নি। প্রেষণে আসা কিছু কর্মকর্তা এবং আমলাদের সাথে নিয়ে তিনি (মেয়র) কাজ করছেন। নির্বাচিত কাউন্সিলদের সঙ্গে তিনি কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন না।

“সম্প্রতি ১৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ই-টেন্ডারের মাধ্যমে তার মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়েছেন, যেখানে বিএনপির ঠিকাদাররাও রয়েছেন।”

“এ পর্যন্ত তিনি সাতবার দেশের বাইরে গেলেও প্যানেল মেয়র করে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান নাই। কাউন্সিলরদের কাউকে এখনও আইডি কার্ড দেন নাই। পুরুষ কাউন্সিলরদের সচিব দেওয়া হলেও নারী কাউন্সিলদের দেওয়া হয়নি। কোনো এলাকা পরিদর্শনে সেই এলাকার কাউন্সিলরকে জানান না।”

“বোর্ডসভায় কোনো নির্বাচিত কাউন্সিলদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে আমলা এবং প্রেষণে আসা কিছু কর্মকর্তাদের কথাকে গুরুত্ব দেন। এই সব বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে এই সভা ডাকা হয়,” বলেন ওই কাউন্সিলর।

বৈঠকের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসাবে নাম এলেও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজি রজ্জব হোসেন বলেন, “মেয়রের কাছে কী চাওয়া পাওয়ার থাকতে পারে। মেয়রের সাথে বিরোধ নিয়ে আমি কাউন্সিলর থেকে আর লাভ কী? সব কিছু চলবে নিয়ম অনুসারে।”

আরও পড়ুন