বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুলিশের আগুনে দগ্ধ সেই দোকানির মৃত্যু

113চাঁদার টাকা না দেয়ায় পুলিশের আগুনে দগ্ধ সেই চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর  তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু বলেন, ‘পুলিশ আমার বাপটাকে মারল। এখন আমাদের কী হবে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটে চাঁদার টাকা না পেয়ে চা দোকানির গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় পুলিশ, এমন অভিযোগ করেছেন দগ্ধ ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তবে শাহআলী থানা পুলিশের দাবি, পুলিশ নয় পুলিশের সোর্সের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এতে বাবুল মাতুব্বর দগ্ধ হন।

রাতেই দগ্ধ চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল।

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার রাত দেড়টার দিকে শাহ আলী থানায় বাবুল মাতব্বরের মেয়ে রোকসানা আকতার ৬জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৫। আসামিরা হলেন- পুলিশের সোর্স দেলোয়ার হোসেন, আইযুব আলী, রবিন, সংকর, দুলাল হাওলাদার ও পারভিন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও মামলায় পুলিশের কোনো সদস্যকে আসামি করা হয়নি।

বুধবার রাতে বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু যুগান্তরকে জানান, গুদারাঘাটে কিংশুক বহুমুখী সমিতির গেটের পাশে রাস্তায় বাবুল মাতুব্বরের চা দোকান। চুলা হিসেবে কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করেন।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহআলী থানা পুলিশের একটি টহল টিম মাইক্রোবাসে তার দোকানে যায়। রাস্তায় দোকান বসানোর জন্য পুলিশ তার কাছে চাঁদা চায়।

বার্ন ইউনিটে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসা নেয়ার সময় দগ্ধ বাবুল মাতুব্বর চিৎকার করে বলেন, আমি বলি টাকা দেব কেন? এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠি দিয়ে স্টোভের চুলায় আঘাত করে। স্টোভের কেরোসিন ছিটকে তার গায়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। দোকানেও আগুন লাগে। এতে তিনি দগ্ধ হন।

বাবুলের পুত্রবধূ মনি আক্তার বলেন, যার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তার গায়ে পুলিশের পোশাক দেখেছেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

শাহআলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডল বলেন, বাবুল চা বিক্রির পাশাপাশি গাঁজা বিক্রি করে। রাতে থানার সোর্স দেলোয়ার ওই দোকানে যায়। তার সঙ্গে দেলোয়ারের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্টোভের চুলা পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় দেলোয়ার পালিয়ে যায়। আগুনের খবর পেয়ে পরে পুলিশ সেখানে যায়। এর আগে পুলিশ সেখানে চাঁদার টাকা নিতে যায়নি বলে দাবি করেন ওসি।

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন