বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে ইলিশ চাষে নরওয়ের প্রস্তাব

Hilsa01_151918159নদীতে ইলিশ চাষে প্রকল্পের ব্যর্থতার পর এবার বঙ্গোপসাগরে ইলিশ চাষের প্রকল্প নিয়ে নাড়াচাড়া করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার যৌথভাবে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ও অন্যান্য প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য চাষ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। নরওয়ের বেসরকারি মৎস্য আহরণকারি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে তিন দেশের কাছেই প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নরওয়ের ওই প্রস্তাব অনুযায়ী ধরা পড়া মাছের ৬০ শতাংশই নেবে বিনিয়োগকারীরা।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে তিন দেশের এলাকা সম্পৃক্ত করে চাষের এলাকা নির্দিষ্ট করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। যে দেশের যতটুকু এলাকা প্রকল্পের মধ্যে পড়বে সেই দেশ সেই হারে উৎপাদিত মাছ ও তার লভ্যাংশ পাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত এতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। মায়ানমার আগ্রহী হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নরওয়ের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঢাকা ও নয়াদিল্লীর সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এরিমধ্যে ফলপ্রসু আলোচনা করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মৎস্য সম্পদ খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ফ্রেস ওয়াটার ফিসারিজ রিসোর্স ফ্রেমওয়ার্ক জরিপ এবং মৎস্য সম্পদের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কাজে তারা অর্থায়ন করবে।

বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার বিস্তৃত উপকূলে সামুদ্রিক প্রজাতির মাছের বাণিজ্যিক চাষের বিপুল সম্ভাবনার কথা স্থানীয় মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারীদের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে বলা হয়েছে। নরওয়েজিয়ান এজিন্সি ফর ডেভলাপমেন্ট কো-অপারেশন (নোরাড) এ ব্যাপারে সহায়তা করতে গভীরভাবে আগ্রহী। তারা নরওয়ের তিনটি বেসরকারি মৎস্য আহরণকারি ও রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে আগ্রহী ও বিনিয়োগে উৎসাহী করেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইনোভেশন নরওয়ে, জেনেগার ও আশাভা নামের। উপকূলীয় তটরেখা ও সামুদ্রিক জলসীমায় তারা মৎস্য চাষ করবে। ইলিশ ছাড়াও ভেটকি, তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছের বাণিজ্যিক চাষ করবে তারা। ভেটকি, তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করবে। পোনা উৎপাদন ও চাষের পদ্ধতির উপর স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেবে।

বাংলাদেশ, মায়ানমার ও ভারতের উপকূলীয় তটরেখা বরাবর ও সামুদ্রিক জলসীমায় সামুদ্রিক মৎস্য চাষের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বিদেশীরা। বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে তাদের দু’দফা আলোচনাও হয়েছে। আগামী মাসে তারা আবার আসবেন। তখনই চুক্তি সম্পাদন হবে। ভারত-মায়ানমার চুক্তি করতে সময় নিলেও বাংলাদেশ বিলম্ব করবে না। আগামী বছরের মধ্যেই তারা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায়।  প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিদেশীদের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ ইলিশ চাষের ব্যাপারে অধিকতর আগ্রহী। ইলিশের উৎপাদন আশানুরূপভাবে না বাড়ায় সরকার বিকল্প এ পথে অগ্রসর হতে চায়। কার্প জাতীয় মাছ বিদেশে রফতানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও ইলিশ চাষ করে দেশীয় চাহিদা মিটানোই এর উদ্দেশ্য।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নরওয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা দ্রুত বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলবে। যাতে করে বাংলাদেশ তার বিশাল তটরেখা ও সামুদ্রিক জলসীমায় নিজস্বভাবেই মৎস্য চাষ ও আহরণ করতে পারে। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী নরওয়ের বিনিয়োগকারীরা আহরিত মৎস্য সম্পদের ৬০ শতাংশ নিতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ এতে রাজী নয়। তারা আধাআধি হারে নেয়ার পক্ষে। বিষয়টি ফয়সালা হওয়ার পরই চুক্তি হবে। দশ বছর মেয়াদি চুক্তি শেষে বিদেশীরা তাদের মৎস্য চাষ ও আহরণের সমস্ত সরঞ্জাম বাংলাদেশকে বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে দিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *