বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তিস্তা চুক্তি অনিশ্চিত: জেআরসি বৈঠক সহসা হচ্ছে না

tista-biradge_5706ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি বাংলাদেশ। তিস্তা চুক্তিও অনিশ্চিতই রয়ে গেল। ভারত কর্তৃক এ ব্যপারে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত রাখা হলেও বিষয়টি নিতান্ত রাজনৈতিক, কূটনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চলতি শুকনো মওসুমে বাংলাদেশের চরম পানি সংকট লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন সূত্রে জানা যায়, গঙ্গা ও তিস্তার প্রবাহ ভয়াবহ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ এখন ৩০ হাজার কিউসেকে নেমে এসেছে। শুকনো মওসুমের শুরু থেকেই বাংলাদেশ চুক্তি মাফিক পানি পাচ্ছে না।

গত বছরের জানুয়ারি মাসে প্রাপ্ত পানির অনুপাতে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ অর্ধেকের কম পানি পেয়েছে। গত বছরের জানুয়ারির শেষ দশ দিনে বাংলাদেশ যেখানে ৮৫ হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে এবার সেখানে একই সময়ে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার কিউসেক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি শাখা হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ২৯ হাজার ৭শ কিউসেক।

গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ দশ দিন পর্যন্ত প্রতি দশ দিনে বাংলাদেশের কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। এতেও শর্ত রাখা হয় যে, উজানে ফারাক্কা পয়েন্টে ৮০ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশকে উল্লেখিত পরিমাণ পানি দেয়া হবে। ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ ৬৫-৬৭ হাজার কিউসেকে নেমে এসেছে। কোন বছরই এত কম পরিমান পানি ফারাক্কা পয়েন্টে থাকার নজির নেই।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি নয়দিল্লীতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রাপ্যতা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় এবং ভাটিতে বাংলাদেশের চুক্তি অপেক্ষা অনেক কম পানি পাওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও অংশ নেন। জানা যায়, ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হলেও পানির প্রবাহ বাড়ানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশ থেকে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠানের জরুরি তাগিদ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে ভারত থেকে কিছু বলা হয়নি। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের মুখ্য আলোচ্য বিষয়ই হবে গঙ্গার প্রবাহ বৃদ্ধি এবং তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি। গঙ্গার প্রবাহ কমার প্রধান কারণ উজানে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নেয়া। সাড়ে চার শতাধিক সেচ প্রকল্প, অবকাঠামোগত স্থাপনা দিয়ে উজান থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি সরিয়ে নেয়ার কারণেই ভাটিতে পানির প্রবাহ অনেক কমে গেছে। পানির অভাবে দেশের কৃষি মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। হার্ডিজ ব্রিজের তলদেশে পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন ধু ধু বালুচর। দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলার ১২৭টি নদীর পানি আসে গঙ্গার প্রবাহ থেকে। এই নদীগুলোর অধিকাংশই এরমধ্যে শুকিয়ে গেছে। শুকনো মওসুমে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে নদ-নদীগুলোর এই করুন অবস্থা কমবেশি প্রতি বছরই হয়ে যাকে। এবারে শুকনো মওসুমের শুরুতেই মারাত্মক আকার নিয়েছে, যা গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।

এদিকে তিস্তার প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় প্রকল্পভুক্ত জমিতে সেচকাজ মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। ভারতের গজলডোবায় তিস্তা ব্যারেজের গেটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ব্যারেজ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে আসা পানি আর এই ব্যারেজ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার ভারতীয় এলাকার ছোট ছোট বারটি নদী, বড় খালের পানিই বাংলাদেশের ভরসা। গজলডোবায় ভারতীয় পয়েন্টে এই সময়ে ১৫শ কিউসেক পানি থাকে। সেখানে এখন পানি রয়েছে ৪৫০ কিউসেক। উজানের সেচ অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পানি সেচ কাজের জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় তিস্তার প্রবাহ কমে গেছে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পুরো মার্চে প্রবাহ আরো কমে যাবে। এই সময়টাতেই সেচের জন্য পানির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চে সিকিমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেই কেবল পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আরও পড়ুন