জার্মানিতে নির্বাসিত দুই বাংলাদেশি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শাম্মী হক ও অনন্য আজাদের ভালোবাসা দিবসে ‘প্রকাশ্য চুমু’র ইভেন্টে সমর্থন জানিয়েছেন জানিয়ে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, শুধু চুমু নয়, এটাতো পুরনো জিনিস, সময় এখন প্রকাশ্যে সেক্স করার। নিজের ফেসবুকের ভেরিফাইড পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘কত প্রিমিটিভ সমাজ হলে ছেলে মেয়েকে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। সময় তো প্রকাশ্যে সেক্স করার।’
উল্লেখ্য, একটি ফেসবুক ইভেন্টে ভালোবাসা দিবসে ঢাকায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্য প্রেমিক যুগলদের প্রতি আহ্বান জানান শাম্মী হক ও অনন্য আজাদ। এ ইভেন্টের নাম তারা দিয়েছেন ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব।’ এই আহ্বানের পর থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় ওঠে। এমনকি শাম্মীকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে আলাদা পেজও খোলা হয়েছে।আর এরপরই তাদের ওপর শুরু হয় আক্রমণ।
গতকাল তসলিমা আরেকটি ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন-
তিরিশ বছর আগে আমি আমার প্রেমিককে রাস্তায়, রেস্তোরাঁয় চুমু খেয়েছিলাম বাংলাদেশের মতো দেশে। ইউরোপের দেশগুলোয় হাটে মাঠে ঘাটে ইউরোপিয়ান প্রেমিককে তো চুমু খেয়েছিই, ঘোর পূর্ণিমা-রাতে সেক্স করেছি নির্জন সমুদ্রপাড়ে, করেছি চাঁদের আলোয় স্নান করতে থাকা নিবিড় অরণ্যে। সেক্স সবসময়ই খুব সুন্দর। নারী-পুরুষের, নারী-নারীর, পুরুষ-পুরুষের, ট্রান্সজেন্ডারের, কুইয়ারের। অ্যানিমেলদের কাছে, বিশেষ করে বনোবোদের কাছ থেকে শেখা উচিত সেক্স নিয়ে কী করে উৎসব করতে হয়। বনোবোরা সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় প্রাণী। কারণ তারা কলহ কোন্দল মিটিয়ে নেয় সেক্স করেই। বনোবোদের সঙ্গে মানুষের ডিএনএ’র সবচেয়ে বেশি মিল। আমি বুঝিনা বাইরে জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে পৃথিবী, আর মানুষ কি না চারদেয়ালের ভেতর দরজায় খিল এঁটে সঙ্গম করে। প্রকৃতির কাছ থেকে মানুষ অনেক দূরে সরে গেছে, আর কত দূরে সরবে! মানুষগুলো দিন দিন দুপেয়ে রবোট হয়ে উঠছে। আসলে সঙ্গমগুলোও আর সঙ্গম নেই। সব যেন ধর্ষণ হয়ে উঠছে। ভালোবাসাও হয়ে উঠছে ঈর্ষা।
২৫ আগস্ট ১৯৬২’তে জন্ম নেওয়া তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের একজন সাহিত্যিক ও চিকিৎসক। বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করে তসলিমা এই শতকের শেষের দিকে নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তাঁর রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ ও মানবাধিকারের প্রচার করায় ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়েন ও তাঁদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন।
দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তসলিমার মাতার নাম ইদুল আরা। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি সরকারী গ্রামীণ হাসপাতালে এবং ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্য্যন্ত মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


