সুন্দরবন বাঁচলে শুধু একটি বনই বাঁচবে না, বাংলাদেশটাও বাঁচবে। প্রধানমন্ত্রী বাঘ সম্মেলনে যখন রাশিয়ায় যান, তখন আমি ভাবি সুন্দরবন নিয়ে তার দরদ আছে। কিন্তু যখন আবার দেখি সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, তখন মনে হয় তার দরদ কোথায়? বলেছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সুন্দরবন দিবস-২০১৬ উপলক্ষে-সুন্দরবন সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সুন্দরবন জিয়ো পলিটিকসের শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
ভারতের মধ্যে সুন্দরবনের অংশের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সুন্দরবন ভারতেও আছে। আর সেখানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিল ভারত। তবে সেখানকার লোকের বাধায় ও মামলার কারণে আর তা করতে পারেনি। ভারতের সঙ্গে সরকারের এমন প্রেম আছে যে সরকার নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে।’
সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আমাদের দেশে একতরফা নির্বাচন হবে, আর ভারতের সুষমা স্বরাজ এসে এরশাদকে এ বিষয়ে প্রভাবিত করবে, তাহলে আমাদের দেশের স্বাধীনতা থাকলো কোথায়?’
সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে অক্সিজেনের যে ভারসাম্য আছে তা সুন্দরবনই রক্ষা করছে। আমরা কোনওভাবেই সরকারকে বোঝাতে পারছি না যে সুন্দরবন সংলগ্ন কোনও বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করলে সুন্দরবনকে রক্ষা করা যাবে না।’
তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সুন্দরবনের ২৫ কিলোমিটারের ভেতর কোনও ধরনের কলকারখানা স্থাপন বা বনের ভেতরের নদী দিয়ে কোনও যান চলাচল করা যাবে না।’
ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পরিবেশকর্মী আব্দুল শামীম সেরনিয়াবাত প্রমুখ।


