আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিএনপি। আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আবেদন জানানো হয়।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের ওপর সরকারের দেওয়া মামলা-কারা নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা মাননীয় প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
রিজভী অভিযোগ করেন, সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও মাহমুদুর রহমানকে নতুন করে আটকে রাখার জন্য সরকার একের পর এক বেড়াজাল নির্মাণ করে চলছে। সব মামলায় জামিন হওয়ার পরও সরকার একটি মানহানির মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট বা পিডব্লিউ প্রত্যাহার না করার অজুহাত দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধভাবে তাঁকে আটকে রেখেছে। দুই সপ্তাহ ধরে আটক রাখার পরে গতকাল পিডব্লিউ প্রত্যাহার করা হয়। আজ যখন মাহমুদুর রহমানের মুক্তি পাওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁকে আরেকটি মামলায় অভিযুক্ত দেখিয়ে আটকে রাখা হলো।
রিজভী বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে পিডব্লিউ প্রত্যাহার না করা যে গভীর চক্রান্ত ছিল, তা এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। সরকারের নির্দেশেই সিএমএম হীন একটি চক্রান্তের অংশীদার হলেন। মাহমুদুর রহমানের পিডব্লিউ নিয়ে সিএমএম যেভাবে ভূমিকা পালন করলেন, তা ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থী।
রিজভী দাবি করেন, ‘সিএমএম দুই সপ্তাহ ধরে মাহমুদুর রহমানের পিডব্লিউ প্রত্যাহার করতে অপেক্ষা করেছেন সরকারকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। যাতে সরকার পুরোনো একটি মিথ্যা মামলা, যে মামলায় মাহমুদুর রহমানের নাম-গন্ধ ছিল না, সেই মামলায় জড়িয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন আটকিয়ে রাখা যায়। এটি এ দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক ন্যক্কারজনক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’
মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের কারা নির্যাতনের ফলে মাহমুদুর রহমানের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। তাঁর চোয়ালের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সাড়ে ১৪ কেজি ওজন হ্রাস পেয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর স্বাস্থ্যগত আরও চরম অবনতির আশঙ্কা করছি আমরা।’


