বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঋণ কেলেঙ্কারির ২ মামলায় হলমার্কের তানভীর-জেসমিনের বিচার শুরু

tanvir-zesminঋণ কেলেঙ্কারির ২ মামলায় হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ ও চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম এবং সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করা সংক্রান্ত দুর্নীতির আরও এক মামলায় জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। এ নিয়ে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় মোট ১১টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বাকি ৯ মামলায় চার্জ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন আগামী ৩ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত। এ ৯টি মামলার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে জানিয়ে আদেশ পেছানোর আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম।

বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ৩ মামলায় চার্জ গঠন ও ৯ মামলায় আদেশের এ দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠন করা ৩ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হবে ৩ মার্চ।

২০১২ সালের ৪ অক্টোবর হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর হোসেন ও চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটির আসামি প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভীর মাহমুদ, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ, সেনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম মীর মহিদুর রহমান, দুই উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত) কারাগারে আছেন।

জামিনে আছেন তানভীরের স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও জামাল উদ্দিন। কারাগারে মারা গেছেন সোনালী ব্যাংক হোটেল রূপসী বাংলা শাখার ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমান।

মামলার অপর ১৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন, হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম, স্টার স্পিনিং মিলসের মালিক মো. আব্দুল বাছির, টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসান, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. জিয়াউর রহমান, আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্যারাগন গ্রুপের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা, নকশী নিটের এমডি মো. আবদুল মালেক ও সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার, সেনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম ননী গোপাল নাথ (বর্তমানে ওএসডি), প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, ডিএমডি মাইনুল হক (বর্তমানে ওএসডি), দুই এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত) ও এজাজ আহম্মেদ, সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন ও সোনালী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার বর্তমান জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূল হোতা হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদকে ২০১২ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মামলার অন্য আসামি হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি ব্ল্যাকবেরি মোবাইল ফোন, গুলি ভর্তি চারটি ম্যাগজিনসহ একটি অবৈধ পিস্তল এবং নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা।

এ বিষয়ে র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছে। এ ছাড়া, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সাভার থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

তানভীর মাহমুদ সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্যাংকটির রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন হোটেল) শাখা থেকে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাত করেছেন।

গত ২৪ মে হলমার্ক গ্রুপের এই কারসাজি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তানভীরকে তলব করে। এরপর ২ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় উপকমিটির ডাকে হাজির হয়ে ঋণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

৪ অক্টোবর তানভীর ও তার স্ত্রী ওই গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে এক হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

আরও পড়ুন