হবিগঞ্জের ওলিপুরে আধুনিক কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ২০১৪ সালের মার্চে শায়েস্তাগঞ্জে এ কারখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। গত দুই বছরে এখানে ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, এলাকার সামাজিক সূচকের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল।
তিনি জানান, কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিস্কার-পরিছন্নতাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্য প্রতিরোধ ও কারখানায় নারী-বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে দেশের অন্যতম এ প্রতিষ্ঠানটি।
খাদ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যের বাইরে নতুন কিছু পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপিত হয় বলে জানান কামরুজ্জামান কামাল।
৬৫০ বিঘা এলাকা জুড়ে অবস্থিত এ কারখানায় চালু আছে ২৮ টি প্রডাকশন লাইন। নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ব্যবস্থা।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ কারখানার পাশে একটি স্কুল পরিচালনা করছে, যেখানে নার্সারি থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে একটি ক্যানটিন, যেখানে মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে কর্মচারীদের একবেলা খাবার প্রদান করা হয়। কারখানায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যে রয়েছে পৃথক আবাসন ব্যবস্থা। এছাড়া শিশুদের জন্যে রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার। স্বাস্থ্য সেবার জন্যে রয়েছে একটি মেডিকেল সেন্টার। এছাড়া মসজিদসহ রয়েছে নানান সুযোগ-সুবিধা।
সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এম মঞ্জুরুল হক, আরএফএল বাইক এর জিএম জাফর ইকবাল, সিনিয়র ম্যানেজার প্রাণ-অ্যাডমিন এহসানুল হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কমিউনিকশেন ম্যানেজার জিয়াউল হকসহ কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।


