দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হল যাত্রী চলাচল (ইমিগ্রেশন)। এর মধ্য দিয়ে ভারতের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার খুলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিংহ বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ফলক উন্মোচন করেন।
১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর ১৪ বছরের মাথায় ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি এই বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে স্বল্প পরিসরে বাণিজ্য চালু হয়।
এই চেকপোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পঞ্চগড়, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার মানুষের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, দিনাজপুর এবং সিকিম ও আসামের জনগণের যোগাযোগ ঘটবে।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট উদ্বোধনের পর পঞ্চগড় থেকে ব্যবসায়ীদের একটি দল ফুলবাড়ী হয়ে ভারতে প্রবেশ করলে তাদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ফুলবাড়ী হয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দল বাংলাবান্ধায় প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৩৫ জন সাংবাদিক ছিলেন।
ইমিগ্রেশন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হল। এই স্থলবন্দর দিয়ে শুধু ভারত নয়, পার্শ্ববর্তী নেপাল ও ভুটানের সাথেও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উম্মোচিত হল। এই স্থলবন্দর বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখবে আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের পর্যটকরা খুব সহজেই এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারতে যেতে পারবেন। আর ভারতের পর্যটকরাও বাংলাদেশে আসবে।”
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার বলেন, “আমাদের ভাষা, খানা-দানা ও সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালবাসা অনেক গভীর। কারণ ১৯৭১ সালে আমি বঙ্গবন্ধুর ডাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলাম। তখন থেকেই বাংলাদেশের প্রতি আমার আলাদা ভালবাসা বিরাজমান। আর আজকের দিনটি প্রমাণ করে দিল দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক আরও গভীর। এর মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হল।”
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিজয় কুমারের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমি এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাচ্ছি।”
পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ফরহাদ হাকিম, নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার গৌতম দেব, দার্জিলিংয়ের এমপি ওয়ালিউল্লাহ, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক বক্তব্য দেন।
এসময় বিজিবির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ আজিজ, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


