বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরকে নিরাপদ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ঢাকার এ বিমানবন্দরকে নিরাপদ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে সরকার। এমন আশার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব প্রবাসী বাঙ্গালী মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছি। এতে হয়ত কোনো স্থানে কড়াকড়ি হয়ে যাচ্ছে; কোনো কোনো জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। সেসব জায়গায় ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শিগগিরই পূরণ করে নিব আমরা। ঢাকার এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ বিমানবন্দর হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরব।”

বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশে থেকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শক্তিশালী না করলে তোমাদের প্লেন আমাদের দেশে যেতে দেব না। এ ধরনের পেক্ষিতে আমাদের বিমানবন্দরের নিরপত্তার ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।”

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “অযথা ইমিগ্রেশন যেন হয়রানি না করে, সেটা আমি দেখব। আমি একদিন গিয়েছিলাম, তখন কয়েকজন অভিযোগ করেছিল, হয়রানির কারণে তাদের বিমান মিস হয়েছে।”

দেশের এক কোটি ৩০ লাখ মানুষকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আগামীতে আমরা ‘ই’ পাসপোর্টে চলে যাবে। সুতরাং পাসপোর্ট নিয়ে কোনো হয়রানি হবে বলে আমি মনে করি না।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশকে অনেক বেশি নিরাপদ দাবি করে তার কারণও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলছি এই কারণে যে, কথায় কথায় যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেওয়া হয়। ওই দেশে একটি জরিপ সংস্থার রিপোর্টে বিশ্বের নিরাপদ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ৩০তম দেখানো হয়েছে, আর তাদের স্থান ৩৩ কি ৩৫ এ।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।”

প্রবাসীদের নিরাপত্তায় সরকার যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে জানিয়ে তাদেরকে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দেশে বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি। কারও প্রলোভনে পড়ে বিনিয়োগ করে প্রতারণার স্বীকার হবেন না।

জার্মানি প্রবাসী একেএম একেএম বসিরুল আলম চৌধুরী সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন