আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা)।
আগামী ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৩৮ ইউপিতে ভোট হবে। অধিকাংশ ইউপিতে প্রার্থী নেই জাপার। মাত্র ১৪৮টিতে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আছে।
তবে জাপার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, চার শতাধিক ইউপিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাধার কারণে অনেক স্থানেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি দলের প্রার্থীরা।
এবারই প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউপি নির্বাচন। আগামী ২২ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ছয় ধাপে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে হবে। দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপিবিহীন বিগত সংসদ নির্বাচনে ৩৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাপা। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘বর্জন’ করলেও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের একাংশ নির্বাচনে অংশ নেয়। ৬টি সংরিক্ষত মহিলা আসন ভাগে পেয়ে সংসদে জাপার এমপি সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০-এ। মন্ত্রিসভায় দলটির তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাঠে এরশাদের দলের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে মাত্র ১টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২৩৫ পৌরসভাতেও একই ফল করছে। পৌরসভার মতো ইউপিতেও যেসব এলাকায় জাপার এমপি রয়েছে, সেখানেও দলটি প্রার্থী দিতে পারেনি।
ইউপি নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন জাপার নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করে সবার আগে প্রস্তুতিও শুরু করেছিল। কিন্তু প্রথম ধাপে তারা প্রার্থীই দিতে পারেনি।
ভোটের মাঠে জাপার অবস্থান দিন দিন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এরপরও দলটির অভ্যন্তরিণ কোন্দল অতীতের মতো চরমে। গত মাসে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করার পর বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুসারীরা এরশাদের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। রওশন নিজেও দাবি জানিয়েছেন, এরশাদের ভাইকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে। সংসদীয় দল আল্টিমেটামও দেয়, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এরশাদের ডাকা কোন সভায় যোগ দেবেন না জাপার এমপিরা। দলীয় কোন্দলের কারণে মহাসচিব পদে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদারকে ফিরিয়ে আনেন এরশাদ। জাপা চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে জাপা।
জাপার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, চার শতাধিক ইউপিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক স্থানেই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।
দুই তৃতীয়াংশ প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি-এ তথ্য বিশ্বাসযোগ্য কি না? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সব তথ্য এখনও হাতে আসেনি।’
তিনি জানান, ময়মনসিংহের চার ইউপিতে আওয়ামী লীগের বাধার কারণে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি জাপার প্রার্থীরা।


