বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

পুরোহিত হত্যা: হোতাসহ ৩ জেএমবি গ্রেপ্তার

135759_1পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু ধর্মগুরুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের একজন ওই হত্যাকাণ্ডের ‘হোতা’- বলছে পুলিশ।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। উদ্ধার করা অস্ত্র প্রদর্শন করা হলেও গ্রেপ্তারদের নাম তিনি প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার দিন গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

ডিআইজি বলেন, “ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনই এ বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হলো। এরা জেএমবির স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের হোতাও রয়েছে। বাকি দুই জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন, ১টি গ্রেনেড, ২টি ককটেল, ৫ রাউন্ড গুলি ও ৩টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার তিনজন জামায়াতুল মুজাহেদিনের (জেএমবি) সদস্য। তবে এদের বিস্তারিত পরিচয় জানাননি তিনি।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি  তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ প্রধানপাড়া এলাকার জেএমবি সদস্য খলিলুর রহমান (৫৫), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও পাবনা জেলার আটঘরিয়া এলাকার জেএমবি সদস্য বাবুল হোসেন (৩৫)। পরে তাদের প্রত্যেককে ১৫দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত রোববার সকাল ৭টার দিকে একটি মোটরসাইকেল যোগে আসে তিন দুর্বৃত্ত। গৌরীয় মঠে ঢুকে তারা মঠের প্রধান পুরোহিত ও অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীর উপর হামলা চালায়।

এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় পুরোহিতকে। বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন মন্দিরের পূজারি গোপাল ও নিতাইপদ দাস।

আরও পড়ুন