মানহানি মামলায় রংপুর আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নিলেন মাহফুজ আনাম। মঙ্গলবার সকালে তিনি রংপুর আদালতে এসে পৌছাঁন। এরপর তার পক্ষের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন ম-ল মওলা।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ১লা মার্চ মাহফুজ আনামকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তারই প্রেক্ষিতে তিনি আজ মঙ্গলবার আদালতে হাজির হলেন।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে মাহফুজ আনাম সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে তার ভুল স্বীকার করেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা সংবাদ প্রচার করা ঠিক হয়নি বলে অকপটে স্বীকার করে নেন তিনি। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।
২২ ফেব্রুয়াার সোমবার পর্যন্ত ডেইল স্টার বলেছে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৭৯ মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ১৭টি আর মানহানি মামলা ৬২টি। অপরদিকে প্রথম আলো বলছে ১৪ দিনে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৭৭টি। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২১টি মানহানি অভিযোগে মামলা হয়েছে ৫১টি।
দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে ২২ ফেব্রুয়াার সোমবার আরও দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরে ৫০ কোটি ৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ ও চুয়াডাঙ্গায় ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়।
ফরিদপুরের মামলায় এবং গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় করা ৫০ হাজার কোটি টাকার একটি ক্ষতিপূরণ মামলায় আদালত গতকাল মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৪ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৭৭টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২১টি মামলা করা হয়েছে। আর মানহানির মামলাগুলোর মধ্যে ৫১টিতে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় সব কটি মামলার বাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সরকারি কৌঁসুলি।
গতকাল চুয়াডাঙ্গার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি করেন জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম। আদালত আগামী ৮ মার্চ এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতে মানহানির একটি মামলা করেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদ ব্যাপারী। এতে বাদীর নিজের ৫ লাখ টাকা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর আইনজীবী গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মাহ্ফুজ আনামকে আগামী ১৫ মার্চ হাজির হতে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১৮ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন।


