বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে দেশের অর্ধশত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী

DB+Arrest_EBL+Boothরাজধানীর বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর কার্ড জালিয়াতির সঙ্গে দেশের প্রভাবশালী ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যবসায়ী জড়িত বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এবং কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, শেখ মারুফ হাসান সরদার, অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

মনিরুল বলেন, এ ঘটনায় জড়িত বিদেশি নাগরিক থমাস পিটারকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে আনা হয়েছে। তিনি গত এক বছরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব কাজে দেশের ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যবসায়ী জড়িত।

তিনি বলেন, “ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর‌্যন্ত ৩/৪ জনকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যাংক কর্মকর্তারা সীমিত তালিকা দিয়েছে। অধিকাংশই দিয়েছে পিওতর সেজেফান মাজুরেক।”

মনিরুল আরো বলেন, এদের মধ্যে মার্চেন্ট, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, সঙ্গীতাঙ্গন এবং ব্যাংকারদের বিশাল একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ৩-৪ জনকে শনাক্ত করেছে। বাকীদের ব্যাপরে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত নয় বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি ঢাকার গুলশান, বনানী ও মিরপুরের কালশীতে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চারটি এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় হয়।

এরপর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তার তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ইউসিবিএলের করা মামলার এজাহারের সঙ্গে এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরায় পাওয়া এক বিদেশির ছবিও দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ২২ ফেব্রুয়ারি পিওতর ও সিটি ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিওতর শুধু গ্রেপ্তার ব্যংক কর্মকর্তাদের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন না জানিয়ে মনিরুল বলেন, “সে আরও অনেকের সঙ্গে অপরাধে জড়িত ছিল। এক বছর ধরে পিওতর এটিএম জালিয়াতি করে আসছে। তবে বেশি করেছে কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে ব্যাংকের পস মেশিন ব্যবহার করে।”

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পিওতর জার্মান নাগরিক হলেও তার পূর্বপুরুষ পোল্যান্ডের নাগরিক ছিল।

পোল্যান্ডের নাগরিক হিসেবেই নকল পাসপোর্ট তৈরি করে পিওতর বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে জানান মনিরুল।

এর আগেও গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছিল, ইউক্রেইনে জন্মগ্রহণকারী পিওতর পোল্যান্ডের ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন। তার কাছে জার্মানির একটি পরিচয়পত্রও পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন