বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কাদের সিদ্দিকীর লিভ টু আপিলের শুনানি ৩ মার্চ

kader_siddique+jugantor_5656স্থগিত হওয়া টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে আগামী ৩ মার্চ ।

মঙ্গলবার কাদের সিদ্দিকীর করা আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।

পরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসীন খান সাংবাদিকদরে বলেন, ‘চেম্বার জজ আদালত কোনো আদেশ দেননি। আগামী ৩ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।’

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর করা রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দু’দিন পর লিভ টু আপিল করেন কাদের সিদ্দিকী, যা মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে ওঠে।

আদালতে কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন- অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।

অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসীন খান।

হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন টাঙ্গাইলের এমপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকী।

এরপর ইসি গত ১০ নভেম্বর ভোটের দিন ঠিক করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে কাদের সিদ্দিকীসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান গত বছর ১৩ অক্টোবর বাছাই শেষে কাদের ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীসহ চার জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ঋণ খেলাপের কারণ দেখিয়ে কাদের ও নাসরিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন কাদের ও নাসরিন। কিন্তু কমিশনের শুনানিতে তাদের আবেদন টেকেনি।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে  আদালত পরদিন কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশে ২২ অক্টোবর সব প্রার্থীর সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীকেও প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর তার মনোনয়নপত্র নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন।

পরদিন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন এবং ওই সময় পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আবেদনটি আপিল বেঞ্চে ওঠে। শুনানি শেষে আদালত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়ে ওই সময় পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখে।

ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ ৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে।

রায়ে বলা হয়, কাদের সিদ্দিকী যে রিট আবেদন করেছেন, হাইকোর্টে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন