বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারত রাডার বসাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে

rader-jugantor_5923সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে রাডার ও সেন্সর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

সীমান্তের এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়। সেখানেই এ প্রযুক্তিগত নজরদারি চালু করতে চলেছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

জম্মু-কাশ্মীরে ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখা তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন, গুজরাটে কচ্ছের রণ এবং ত্রিপুরার কিছু এলাকাতেও এ ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার বেশ কিছু অঞ্চল এতো দুর্গম যে সেখানে শুধুমাত্র সেনা মোতায়েন করে নজরদারি সম্ভব নয়। গুজরাটের কচ্ছের রণেও ভারত-পাক সীমান্তে কোনও বেড়া নেই।

স্যার ক্রিক নামে একটি সামুদ্রিক প্রণালী ভারত এবং পাকিস্তানের সীমা চিহ্নিত করেছে। আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত এই ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রণালী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃত হলেও তার কাছে কোনও স্থায়ী বেড়া দেওয়া কঠিন।

রণের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত স্যার ক্রিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারিও কঠিন। একই অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনেও।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ এলাকাতেই সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত হলেও, সুন্দরবনের মধ্যে সীমান্ত কোথায় বিলীন হয়েছে স্পষ্ট নয়।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশে ভারত এবং বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে সুন্দরবনের মধ্যে যেন মিশে রয়েছে। এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গভীরতম এলাকাতেই দু’দেশের সীমান্ত। সেই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশ এমনই এবং তা এতই দুর্গম যে কোনওভাবেই সেখানে কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রাণালয় ওই সব সীমান্ত আর অরক্ষিত রাখতে চায় না। দুর্গম সীমান্তগুলো অরক্ষিত থাকার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। এ কারণেই এসব সীমান্ত পাহারা দেয়ার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, ওই সীমান্তগুলোতে উন্নতমানের রাডার, সেন্সর, ক্যামেরা এবং কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক বসানো হবে।
কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা গড়ে তুলে সেই সব নজরদারি সরঞ্জামকে কাজে লাগানো হবে। অর্থাৎ, সীমান্তে বসানো রাডার, সেন্সর বা ক্যামেরায় কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়লেই কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেনা বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সেই খবর পৌঁছে দেয়া হবে।

খবর পাওয়া মাত্রই উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেবে সশস্ত্র বাহিনী।

সবার আগে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার বেশ কিছু এলাকায় এ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখায় রাডার, সেন্সর, ক্যামেরা বসাতে এবং কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিরেন রিজিজু ।

আরও পড়ুন