রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে ন্যাম কোয়ার্টারে এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার লাশ নিয়ে কাফরুল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত নিহত তরুণীর লাশ নিয়ে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সড়ক অবরোধ করেন স্বজনেরা।
পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে কাফরুল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে শত শত এলাকাবাসী তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, রোববার ন্যাম কোয়ার্টারের ৩ নম্বর ভবনের নিচে জরিনা বেগম (২২) নামে একজন গৃহকর্মীর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা জরিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশের ময়নাতদন্ত করতে রোববার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।
সোমবার সকালের দিকে হাসপাতাল থেকে কাজীপাড়ায় নিয়ে আসেন জরিনার স্বজনেরা। এ সময় তারা বাসস্ট্যান্ডে সড়ক অবরোধ করেন।
তাদের অভিযোগ, জরিনা যে সরকারিক কর্মকর্তার বাসায় কাজ করতেন, সেখানে মূলতঃ তার মা কাজ করতেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় ৪/৫ দিন ধরে ওই বাসায় কাজ করছিলেন জরিনা। সেখানে ওই সরকারি কর্মকর্তার ছেলে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সর্বশেষ রোববার জরিনাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর রোববারই কাফরুল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জরিনার স্বজনেরা আজ সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে ঘটনার বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা নিহত জরিনার লাশ নিয়ে সড়ক ছেড়ে যায়।
তবে সড়ক থেকে সরে লাশ নিয়ে মিছিল করতে করতে কাফরুল থানায় দিকের এগিয়ে যায় স্বজনেরা। এ সময় আশপাশ থেকে এলাকাবাসীও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
দুপুর সাড়ে ১২ট পর্যন্ত নিহত জরিনার স্বজন ও এলাকাবাসী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা জরিনাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেফ্তারের দাবি জানান।
পরে পুলিশ ঘটনার বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে থেকে চলে যায়।
এদিকে কাফরুল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জানায়, জরিনা নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কাফরুল থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, জরিনাকে ওই বাসার ছাদ থেকে কেউ ফেলে দিয়েছে অথবা সে পড়ে গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে।


