সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় দুই মাসেও প্রকাশিত হয়নি। গত ৬ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সবার মতো আমিও রায় প্রত্যাশা করছি।’ শিগগিরই রায় পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে আলবদর প্রধান ও জামায়াতের সহযোগী সংগঠন তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি নিজামীকে আটটি অভিযোগের মধ্যে চারটিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী।
গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও পাবনার সাঁথিয়ায় হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল
রাখেন। নিজামীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। সব বিচারপতির স্বাক্ষরের পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করতে পারবে আসামিপক্ষ। এরপর শুধু থাকবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করলে দণ্ড কার্যকর করবে সরকার।
চট্টগ্রামে আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শিল্প ও কৃষিমন্ত্রী নিজামী বর্তমানে জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২১ জুলাই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। ২০১২ সালের ২৮ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ১৬টি অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এরপর প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দেন। নিজামীর পক্ষে তার ছেলেসহ চারজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।


