বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্ভার এরিয়া খুবই সুরক্ষিত। আইডি প্যানেলে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও এন্টি-ভাইরাস প্রুফ। এতে করে সুইফট কোড হ্যাক হওয়া তো দূরের কথা এর আইডি প্যানেলে তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রবেশ করার সুযোগও নেই। সঙ্গত কারণে হ্যাকারদের মিশন এখানে কোনোভাবেই সফল হবে না। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষও সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের দফতর থেকেও হ্যাক হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাহলে প্রশ্ন হল- কথিত হ্যাকাররা কীভাবে হ্যাক করে টাকা চুরি করে নিয়ে গেল।
আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল এ সংক্রান্ত সার্ভারের ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই পরীক্ষান্তে রহস্যের দ্বার অনেকখানি উন্মোচন হবে। চুরি হওয়া টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক।
অন্যদিকে কথিত হ্যাকাররা তাদের এই অর্থ চুরির মিশনে ৩০টি মেসেজ ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৫টি মেসেজ গ্রহণ করায় ফেডারেল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা চুরি হয়ে যায়। তবে উদ্বেগের তথ্য বিষয় হল অবশিষ্ট আরও ২৫টি মেসেজ গ্রহণ করলে ৯৭ কোটি ডলার হারাতে হতো বাংলাদেশকে, যা টাকার অংকে ৭ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বুধবার বলেন, ‘সার্ভার বাংলাদেশ থেকে হ্যাকড হয়নি। এটি দেশের বাইরে থেকে হয়েছে, যা আমাদের আওতার বাইরে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’
অপরদিকে ব্যাংকের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গতকাল সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে গভর্নর আতিউর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারে ম্যালওয়ার ভাইরাস আক্রমণ করেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগে থেকেই দক্ষতা অর্জন করেন। এ ভাইরাস আক্রমণ সম্পর্কে কম-বেশি সাধারণ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন লোকজনেরও ধারণা আছে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারের যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের ভাইরাস প্রতিরোধ করতে না পারাটা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওই হার্ডডিস্ক ইমেজ ফরেনসিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। আর এতে করে জানা যাবে ম্যালওয়ার আক্রমণ কীভাবে করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার ব্যবহারকারী তথ্য সংযোজন বা তথ্য মুছে ফেললে সেটাও স্পষ্ট হবে। তবে এ পরীক্ষার কাজটি করছে ‘ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিকস’ নামে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান। তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ আস্তানা আসেন। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। আর এর মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট সার্ভার পরীক্ষার জন্য ডাটা পাঠানো হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে।
এ তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশীয় প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে যে মানের অত্যাধুনিক এন্টিভাইরাস আছে সেখানে ম্যালওয়ার আক্রমণ করার কথা না। তাই এখন তদন্তের বিষয়- কীভাবে ম্যালওয়ার আক্রমণ করল। একই সঙ্গে এ ধরনের ভাইরাস আক্রমণ করলে এন্টিভাইরাস তা সহজে প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। এজন্য আসলে কী হয়েছিল, সেই জায়গা আগে স্পষ্ট করতে হবে। তারা বলছেন, বাংলাদেশে কয়েকজন উচ্চপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ আছেন। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারের সব লগ পর্যালোচনা করে তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু দেশীয় লোকবল থাকা সত্ত্বেও বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে ডেকে আনার বিষয়টি কেউ কেউ ভালোভাবে নেননি।
তারা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমনকি বাংলাদেশের অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভাইরাস মোকাবেলার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সিস্টেম চালু করে ভাইরাস বা হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে এন্টিভাইরাস ছিল বা আছে, তা দিয়েও প্রতিরোধ করা যেত। কিন্তু প্রতিরোধ করতে না পারায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। শর্ষের মধ্যে ভূত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেলের লোক ছাড়া এটা শুধু বাইরের কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ বিষয়ে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ যুগান্তরকে বলেন, প্রযুক্তির যুগে এখন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির বিভিন্ন সিস্টেম চালু হয়েছে। এর মধ্যে কোথাও কোথাও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়। যে পিসিতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে কিন্তু ফায়ারওয়াল নেই সেই পিসি যে কোনো সময় হ্যাকড হতে পারে। তারা বলেন, তাই ফায়ারওয়াল হল এমন একটা সফটওয়্যার বা ডিভাইস যা অন্য কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিচালিত নেটওয়ার্ক ট্রাফিকগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারে। এ সিস্টেম নিরাপত্তা রক্ষাকারী কিছু বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। যে কোনো নেটওয়ার্ক কম্পিউটার সিস্টেমে অনুমোদনহীন ইলেকট্রনিক এক্সেসকেও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রবেশ ও বের হয়ে যাওয়া মেসেজ ফায়ারওয়াল পর্যবেক্ষণ করে। পাশাপাশি প্রতিটি মেসেজ সিকিউরিটির নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে। ফায়ারওয়াল সিস্টেম সব ধরনের প্রবেশ ও বের হওয়া থ্রেট ব্লক করতে পারে। পাশাপাশি ইউটিএম সিস্টেমও কঠোর নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে ব্যাংকের এত কঠোর নিরাপত্তার ভিড়ে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটারগুলোয় এ ধরনের সিস্টেম ছিলই না। আর সত্যিই যদি না থাকে তাহলে কেন তা ছিল না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এন্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট করা হতো। এজন্য দক্ষ টিমও রয়েছে। আবার হ্যাকাররা যাতে সার্ভারে প্রবেশ করতে না পেরে সে ধরনের দক্ষ লোকেরও অভাব নেই। তারপরও কীভাবে হ্যাকড হল তা নিয়ে তারাও চিন্তিত। তবে তারা এখনও জোর দিয়ে বলতে চান, তাদের এখান থেকে কিছু হয়নি।
এদিকে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সার্ভারের কম্পিউটারগুলো যাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তারা খুবই প্রযুক্তিদক্ষ। এই সার্ভারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েকজন উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। যারা সুপার অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেন। আবার তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন আরও বেশকিছু অ্যাডমিন। তারা ফাস্টলাইনে থেকে আইডিগুলো পরিচালনা করেন। এদের প্রত্যেকে পৃথক আইডি ও আইপি ব্যবহার করে থাকেন। আবার কাউন্টার চেকিংয়ে তারা সার্ভারে কী করছেন তা প্রধান অ্যাডমিন পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যাকারদের এমন আক্রমণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেই হ্যাকারদের লোক থাকতে পারে। আর এজন্য স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তি জানা গোয়েন্দাদের এ অনুসন্ধান ও তদন্তে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা যুগান্তরকে বলেন, সার্ভারের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল। যদিও ম্যালওয়ার ভাইরাস আক্রমণের কথা বলা হচ্ছে। আদৌ কোনো ভাইরাস আক্রমণ করেছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিজার্ভের ৯৭ কোটি ডলার চুরির জন্যই সুইফট মেসেজ যায় : জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সর্বমোট ৯৭ কোটি ডলার স্থানান্তরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের নিউইয়র্ক শাখায় নির্দেশনা দেয়া হয়। ৩০টি মেসেজের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৫টি নির্দেশনা মোতাবেক ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) স্থানান্তরিত হয়েছে। বাকি নির্দেশনা আটকে দেয় ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমস। এর ফলে ৮৭ কোটি ডলার ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আটকে দিয়েছে। এদিকে এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ জড়িত কিনা বা কাউকে নজরদারিতে রাখা বা কারও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে কিনা তা প্রকাশ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে ‘বাংলাদেশের পরিশোধ ব্যবস্থা অবকাঠামোতে সাইবার নিরাপত্তা’ শীর্ষক বিশেষ মতবিনিময় বুধবার সভা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। গতকাল অনুষ্ঠিত এ সভায় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, নাজনীন সুলতানা ও এসকে সুর চৌধুরী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট আল্লাহ মালিক কাজেমী, নির্বাহী পরিচালকরা, বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান প্রযুক্তি অফিসার (সিটিও) এতে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি কনসালট্যান্ট রাকেশ আস্তানা এতে ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও নাজনীন সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা ও রাকেশ আস্তানা।
আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকড হওয়া টাকা উদ্ধারে কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আইটি বিশেষজ্ঞ একটি টিম কাজ করছে। অপরাধীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে বা বাইরে সব বিষয় সামনে রেখে কাজ চলছে। তবে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, রিজার্ভ হ্যাকড হওয়ার খবর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জানানো হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে সময়মতো যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। শুভংকর সাহা বলেন, আইনি জটিলতার কারণে ফিলিপাইনে চলে যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার এখনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ওই টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে, শিগগিরই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোট ৮শ’ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার চুরি করে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায়। এর মধ্যে শ্রীলংকা থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা যায়নি। ২৯ ফেব্র“য়ারি ফিলিপাইনের ইনকোয়েরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফিলিপাইন থেকে ১০ কোটি ডলার বা ৮শ’ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এটিই ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারের ঘটনা। যার একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গেছে।
বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ফিলিপাইনে অর্থ পাচার হল, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসে। এতে ওই ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এরপর অবৈধভাবে বিদেশী মুদ্রা লেনদেনকারী ফিলরেম নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এভাবে হাতবদল হয়ে সবশেষে ফিলরেমের মাধ্যমে ওই ১০ কোটি ডলার ফিলিপাইন থেকে আবার অন্য দেশে পাচার হয়ে যায়। আর যে তিনটি ক্যাসিনোর হাত ঘুরে তা অন্য দেশে পাচার হয়েছে সেগুলো হল সোলাইরি রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো, সিটি অব ড্রিমস ম্যানিলা ও মাইডাস হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো।


