অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরি শুরুর বেতন স্কেল এক গ্রেড নামিয়ে এনেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরি শুরু হবে নবম গ্রেডে দিয়ে। নতুন বেতন কাঠামোয় অষ্টম গ্রেডে ক্যার্ডার কর্মকর্তাদের প্রবেশ করার বিধান রাখা হয়েছিল। ক্যাডার কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডে বেতন স্কেল শুরু হলেও তারা অতিরিক্ত একটি ইনক্রিমেন্ট পাবেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বেতন বৈষম্য সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের (সরকারি কলেজের শিক্ষক) টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ অধ্যাপক পদে স্থায়ী পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-৩-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন স্কেলে ক্যাডার এবং নন-ক্যার্ডারদের চাকরি শুরুর বিধান ছিল নবম গ্রেডে। অষ্টম বেতন কাঠামোয় এসে ক্যাডারদের প্রবেশ গ্রেড এক ধাপ ওপরে তুলে অষ্টম গ্রেড রাখা হয়। ফলে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে গ্রেড নিয়ে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্যর সৃষ্টি হয়। তবে সর্বশেষ বৈতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত বৈঠকের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ক্যাডার ও নন-ক্যাডারদের বৈষম্য দূর হল।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয় একটু টেকনিক্যাল ধরনের। অষ্টম ও নবম গ্রেড- এ দুটি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কিছু কষ্ট আছে। ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে তিন সচিব (প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব) বৈঠক করেছেন এবং বিষয়টি এখন প্রায় সমাধান হওয়ার পথে। শুধু একটি বিষয়ে তিন সচিব এখনও তাদের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। সেজন্য বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটির আগামী বৈঠকে ৪-৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি রাখা হবে। ওই বৈঠকেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান মুহিত।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম শ্রেণীর চাকরি শুরুর পদটি হবে নবম গ্রেড। কারও কারও পদ নতুন পে-স্কেলে অষ্টম গ্রেডে এবং কারও কারও নবম গ্রেডে হয়েছিল। এতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এখন ক্যাডার কর্মকর্তা এবং প্রথম শ্রেণীতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই নবম গ্রেডে হবেন। তবে এসব কর্মকর্তার একটি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ গ্রেডে থাকা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেতন বৈষম্য সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সপ্তম বেতন স্কেলে চতুর্থ গ্রেডে থাকা অধ্যাপকরা ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে পরের ধাপে চলে যেতেন। অষ্টম বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড তুলে দেয়ায় শিক্ষকরা এ সুযোগ হারাচ্ছিলেন।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবু নাসের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


