দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটি থেকে অনেকে বাদ পড়ছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও ‘অসুস্থ’ ও ‘নিষ্ক্রিয়’ নেতাদের কেউই বাদ পড়ছেন না। বরং স্থায়ী কমিটিতে আরও অন্তত তিনজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন।
বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে তিনটি পদ শূন্য আছে। আর এ গণি, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের কারণে এই তিনটি পদ শূন্য হয়। এ ছাড়া এম শামসুল ইসলাম ও সারোয়ারী রহমান অসুস্থ। তাঁরা বেশ কিছুদিন থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের সংখ্যা কমপক্ষে তিনটি করে বাড়ানো হতে পারে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ থেকে বাড়িয়ে ২০ জন, যুগ্ম মহাসচিব পদে ৭ থেকে ১০ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭ জন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন বা তারও বেশি করা হতে পারে। প্রত্যেক সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে একজনের পরিবর্তে দুজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হতে পারে।
বিএনপির সূত্র জানায়, ১৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক উপকমিটি আবার বৈঠকে বসে এসব বিষয় চূড়ান্ত করবে। এরপর তা সম্মেলনে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ আকারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটিসহ মুখ্য পদগুলোর সংখ্যা বাড়াতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক উপকমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করছে উপকমিটি।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেন, যেভাবে পদের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে কেবল সম্পাদকীয় পদের নেতাদের সভা ডাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসার জায়গা হবে না।
জানা গেছে, বিএনপির বর্তমান জাতীয় নির্বাহী কমিটি ৩৫১ সদস্যের পরিবর্তে ৪৫১ সদস্যের করা হতে পারে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদকে বর্তমানে চেয়ারপারসনস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আদলে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ‘কনসালটেটিভ কমিটি’ করা হতে পারে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আদলে প্রত্যেক সম্পাদকের অধীন বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি করা হতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক পদ স্থানভিত্তিক করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণবিষয়ক একাধিক সম্পাদক ও সহসম্পাদক, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক পদ গঠনতন্ত্রে সংযোজন করার সুপারিশ রয়েছে।
জানা গেছে, চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সেই পদে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গঠনতন্ত্রে থাকা উপজাতীয়বিষয়ক সম্পাদকের নাম পরিবর্তন করে নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক করার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা স্বীকার করেন গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক উপকমিটির অন্যতম সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সম্মেলনে অনুমোদনের জন্য আমরা কিছু কিছু পদের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করছি। সোমবারের বৈঠকে এসব চূড়ান্ত করা হবে।’


