বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ঢুকে টাকা মেরে দেওয়া নিয়ে তোলপাড় হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান চার দিনের সফরে ভারত গেছেন। রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সারা দেশের আর্থিক খাতের যখন টালমাটাল পরিস্থিতি সেই মুহূর্তে গভর্নরের ভারত সফরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ১০ মার্চ ভারত যান গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ১৪ মার্চ তিনি ফিরবেন বলে জানা গেছে। এক বছরের ব্যবধানে এটি তার চতুর্থ বার ভারত সফর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পুরো আর্থিক খাতের অবস্থা নড়বড়ে। এ দুর্যোগময় পরিস্থিতে আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে তার দেশে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটাই প্রত্যাশিত। তা না করে তিনি ভারতে গেছেন। এটি বিস্ময়কর! গা বাঁচানোর জন্যই তিনি হয়ত এ সফরে গেছেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরের ব্যবধানে তিনি ১৪ বার বিদেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে ভারতে চারবার, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে দু’বার করে, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পেরু, কুয়েত, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে একবার করে গিয়েছেন। এ ছাড়া বছরের প্রায় বার মাসই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অফিসিয়াল সফরে গিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল কাজ হলো মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ আর্থিক খাতের নীতি প্রণয়ন করা। অথচ তিনি তা না করে আর্থিক খাতে গণমানুষের সম্পৃক্ততার কথা বলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। আগের কোনো গভর্নরকে এ রকম করতে দেখিনি।’
এর আগে ভারত যাওয়ার আগে ৭ মার্চ এক অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর। আদেশে বলা হয়, ভারতীয় নাগরিক বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাইবার বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানার মৌখিক পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগ, ইউনিটে ও সার্ভারসমূহে তার সরবরাহ করা সফটওয়্যার (সিকিউরিটি প্যাচ) ইনস্টল করা হোক।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাক করে ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।


