গ্রাহকের অগোচরে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর এবার এক ব্যবসায়ীর ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুশতাফ আহমেদ নামে ওই ব্যবসায়ী তার ফেইসবুক পেইজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় তার ইবিএলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দুটি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ২২ হাজার টাকা উত্তোলনের এসএমএস পেয়েছেন তিনি। কিন্তু আমি টাকা তুলিনি এবং কার্ড আমার কাছেই ছিল।”
সম্প্রতি বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে ‘ক্লোন’ এটিএম কার্ড তৈরির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি জালিয়াত চক্র। ইউসিবি, ইবিএল ও সিটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে তথ্য চুরির প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার মধ্যে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে কেনাকাটার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এরপর ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের এই অভিযোগ এল।
বাংলাদেশের প্রথম কুমির খামার রেপ্টাইলস ফার্মের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান নির্বাহী মুশতাক বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটের ডেটলাইনে তিনি প্রথম এসএমএস পান, যাতে বলা হয়েছে সিবিএল পল্লবী এটিএম থেকে তার কার্ডে দুই হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এর দুই মিনিট পরের ডেটলাইনের আরেকটি এসএমএসে একই বুথ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করার কথা জানানো হয়।
মুশতাক আহমেদ বলেন, এসএমএস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইবিএলের হেল্পলাইনে ফোন করে ঘটনাটি জানান। হেল্পলাইন থেকে পল্লবীর সিটি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানানো হয়।
তিনি বলেন, “হেল্পলাইন থেকে আমার ক্রেডিট কার্ডটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে এবং ট্রানজেকশনের বিষয়টি পরে জানানো হবে বলা হয়।”
এ বিষয়ে জানতে ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, “হ্যাঁ সিটি ব্যাংকের পল্লবীতে অবস্থিত এটিএম বুথে এরকম একটা ঘটনা শুনেছি। আমরা এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখতে চেয়েছি।
“তবে ক্রেডিট কার্ডে এটিএম বুথে টাকা তোলার ঘটনা স্বাভাবিক না, সাধারণত ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা হয় এবং পস মেশিনের মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাটির বিস্তারিত দেখব। অবশ্যই আমরা কাস্টমারের স্বার্থ রক্ষা করব, কিন্তু সেটা প্রমাণ সাপেক্ষে।”
আলী রেজা ইফতেখার বলেন, “এটিএম জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছি। প্রত্যেকটা লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”


