বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

যারা ট্রেন জার্নি করেন তাদের জন্য এটা পড়া জরুরি

khulna-kolkata-trainশোয়েব কবির, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক।

সংক্ষেপে বলি। টিভিতে ঐদিন একটা ক্রাইম রিপোর্ট দেখছিলাম ঢাকা চিটাগাং ট্রেন লাইন নিয়ে। গত এক বছরে এই লাইনের কিছু কিছু স্পটে প্রায় দেড়শ মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আখাউড়া ভৈরব কিশোরগঞ্জ কসবা বি-বাড়িয়া হয়ে নরসিংদী পর্যন্ত। পুলিশ এই লাশগুলা বেশিরভাগ অজ্ঞাতপরিচয় আত্নহত্যা হিসেবে রেকর্ড করে। তারপর মর্গ হয়ে মাটিচাপা। হিন্দু মুসলিম ব্যাপার নাই, সব মাটিচাপা। ডোম মৃতব্যাক্তির জামাকাপড় রেলওয়ে ডোমঘরের সামনে ঝুলায়ে রাখে। যদি বছর দুয়েকের ভিতর মা বাবা এসে জামাকাপড় দেখে সনাক্ত করতে পারে তাইলে কবর দেখিয়ে দেওয়া যাবে। জামাকাপড় রোদে শুকায়ে বৃষ্টিতে ভিজে চেহারা সুরত আস্ত থাকে না।

পয়েন্টে চলে আসি। এই লাশগুলা বেশিরভাগই মার্ডার কেস। দশ বিশ পাঁচশ টাকা, পকেটে থাকা মোবাইল ফোন, এগুলা ছিনতাই করার জন্য মার্ডারগুলা করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী, চেহারা না দেখিয়ে দুইজন পুলিশ, ছিনতাইকারি এদের বক্তব্য দেখাইছে। বিশ টাকার জন্যও তারা মানুষ খুন করছে।

ছিনতাইয়ের নিয়মটা হচ্ছে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে করিডোরের মত থাকে, দুই পাশে দরজা, বাথরুম। রাতের ট্রেনে এসব যায়গায় সুবিধামত লোক পেলে ছিনতাইকারী চক্রের দুইজন পেছন থেকে আক্রমণ করে। আক্রমণের নিয়ম হচ্ছে গামছাকে পেঁচিয়ে চিকন করা হয় প্রথমে। তারপর দুই মাথা দুইজন ধরে যাকে আক্রমণ করা হবে, তার গলায় পেছন থেকে এক প্যাঁচ দিয়ে দুপাশ থেকে হেছকা টান। ১৫ সেকেন্ডের ভিতরই ঐ লোক মারা যাবে। না মরলেও তার জীবন ঐখানেই শেষ। এরপর তার পকেট থেকে যা নেওয়ার নিয়ে পাশের দরজা দিয়ে ফেলে দিবে।

রাতের ট্রেনে সবাই ঘুমায়। তাছাড়া ট্রেনের আওয়াজ থাকে। কেউ কিচ্ছু টের পাবেনা। পুরো কাজটা করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ দেড় মিনিট। এরা ধরা পড়ে, আবার জামিনে বের হয়। আদালতের কাছে এভিডেন্স থাকেনা পর্যাপ্ত। বিচারও হয়না।

অসংখ্যবার রাতের ট্রেন তূর্ণা নিশিথাতে চড়ছি। বেশিরভাগ সময় এটাতেই চড়ি। মধ্যরাতে এসব করিডোরে অনেকবার যাই। সিগারেট খাওয়ার জন্য যাই, বাথরুমে গেলে যাওয়া লাগে, মুখ ধুইতে মন চাইলে ঐখানে বেসিন আছে এজন্য যাই। চাঁদনি রাতে দরজা খুলে দরজার পাশে দাঁড়ায়ে থাকি। সিগারেট টিগারেট খাই।নরসিংদী পার হওয়ার পর পর কিশোরগঞ্জ বিবাড়িয়া কুমিল্লা পুরা এলাকাটাই বেশ সুন্দর। চাঁদনি রাতে আপনি তাকাবেন বিস্তৃর্ন মাঠ ধানক্ষেত, বর্ষায় থইথই পানি, কিশোরগঞ্জের ঐদিকে সম্ভবত হাওড় থেকে আসে। অনেকগুলা নদী পড়ে। কোনো ইস্টিশনে দাঁড়াইলে নেমে চা টাও খাই।

ওইদিন এই রিপোর্ট (একুশের চোখ, তালাশ, বা এরকম কিছু) দেখার পর এখন ভয় ঢুকে গেছে। রাতের ট্রেনে চড়িনা।

সাবধান হন, শেয়ার করুন তাদের সাথে যারা রেলে যাতায়াত করেন…

আরও পড়ুন