বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবির। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটন এ আছেন। ১৮ মার্চ ফিরে দায়িত্ব নিবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ নিয়োগের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে গেছে। নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবিরকে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফজলে কবির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আগামী ১৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’
দেশে ফেরার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফজলে কবির এ পদে নিয়োগ পাবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় তুমুল বিতর্কের মুখে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
এরপর ড. আতিউর রহমানের জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মো. আবুল কাশেমকে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ নম্বর ডেপুটি গভর্নর ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বিধি অনুযায়ীই তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন গভর্নর দয়িত্বে না আসা পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্বে থাকবেন। ২০১১ সালের ৭ জুলাই মো. আবুল কাশেম বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়।
ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। কিন্তু, দেশে তিনি এই ঘটনা চেপে যান।
এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়।
পরে গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকার করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করে, দেশের বাইরে থেকে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যেভাবে টাকা চুরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অর্থ লোপাটের বিষয়টি চেপে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেভাবে তা ‘সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে’ এটাকে ‘অযোগ্যতা’ অভিহিত করে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী রোববার বলেন, ‘এই স্পর্ধার জন্য অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


