বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রুবেল: চাকরির আশায় ২০ বছর

Rubel-DU‘অভারের সংসার। পড়া লেখা করতে পারিনি। মা বাবা কেউ জীবিত নেই। ২০ বছর যাবৎ এই ক্যাম্পাসে আছি। অনেক নেতা দেখেছি। অনেক আন্দোলন দেখেছি। এখন মধুর ক্যান্টিনে ক্যান্টিন বয়ের দায়িত্বে আছি। এখন আমার একটাই আশা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করা। কিন্তু কে দিবে চাকুরী।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই নিজের কথা প্রকাশ করলেন রুবেল।

রুবেলের আসল নাম সুজন আহমেদ মুন্সী। পিতার নাম আব্দুর রশিদ মুন্সী অনেক আগেই মারা যান আর মা মনোয়ারা বেগম ২০০৯ সালে মারা যান। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তার অবস্থান চতুর্থ।

রুবেলের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় হাজী গওহর মোলাকান্দি গ্রামে। ১৯৯৬ সালে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে। রুবেলের ভাষ্যমতে যখন সে ক্যাম্পাসে পা রাখে তখন তার বয়স ছিল সাত বছর। গায়ে ছিল একটা গেঞ্জি এবং পরনে একটা হাফ প্যান্ট।

রুবেল বলেন, জন্মের পর থেকেই কষ্ট দেখে আসছি। অভাবের সংসার থাকায় পড়ালেখা প্রথম শ্রেণীতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। গত বিশ বছর এ ক্যাম্পাসে কাটিয়ে দিয়েছি। চার বছর আগে মধুর ক্যান্টিনে ক্যান্টিন বয় হিসেবে যোগ দিই। এর আগে ক্যাম্পাসে পান, সিগারেট বিক্রি করতাম।

৯৬ থেকে এ পর্যন্ত যারা ছাত্র নেতা হয়েছেন সবাই আমাকে চিনেন। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক নেতা আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও প্রতিটি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। এখনও আছে।

ক্যাম্পাসে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম দেখেছি। বিশেষ করে ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর সাথে শিক্ষার্থীদের মারামারি, ২০১৩ সালে কোটা বিরোধী আমার কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুবেল বলেন, বিশ বছর যাবৎ ক্যাম্পাসে কাটিয়ে দিয়েছি। এ ক্যাম্পাসই আমার কাছে ভালো লাগে। ক্যাম্পাস ছেড়ে কোথাও যেতে মন চায়না। ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি কষ্ট। পড়া লেখা জানা নেই। তারপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করতে চাই। কিন্তু কে দিবে আমাকে চাকুরী।

আরও পড়ুন