বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইডেনে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাবে ভারতীয়রা!

kolkataখেলাটা কলকাতার ইডেনে। ২৫ বছর পর এই মাঠে খেলছে বাংলাদেশ। খুব কাছের শহর বলে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই গেছেন এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে। তবে তাঁদের সংখ্যাটিও পুরো গ্যালারির একটা অংশ মাত্রই হবে। ইডেনের আজ প্রতিটা সিট ভরিয়ে তুলতে পারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরা। নানা সমীকরণে সে রকমই একটা আওয়াজ উঠেছে।

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে যে-ই খেলুক, ‘বাই ডিফল্ট’ ভারতীয়দের সমর্থন তারা পেয়েই থাকে। তবে এটিও বড় কারণ নয়। কারণ দুই বাংলার মানুষের অদৃশ্য ভালোবাসার বন্ধন। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভীষণ রকমের যোগসূত্র আছে। দুই বাংলা​র মানুষের ভাষা ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যই শুধু নয়, ওই বাংলায় এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটে এই বাংলায়। সেই নাড়ির টানে আজ ভারতের বাঙালি ক্রিকেট অনুরাগীরা বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে পারেন। কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে ১১ জন বাঙালি খেলছে, কলকাতার মানুষদের কাছে এ যে বিরল এক দৃশ্য।

ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলোর একটি এই ইডেন। কত ইতিহাস জড়িয়ে ইডেন যেন ক্রিকেটের সত্যিকারের নন্দনকানন হয়ে উঠেছে। যদিও আগের সেই এক লাখ দর্শকেই ইডেন এখন আর নেই। আসন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের কারণে ইডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা আগের মতো নেই। ইডেনে এখন ৬৮ হাজার লোক বসতে পারে। তবে গতকাল কলকাতার বাতাসে বেশ ভেসে বেড়াল—ইডেনে নাকি ৯০ হাজার মানুষ বাংলাদেশের নামে গলা ফাটাবে!

মাশরাফি গতকাল বলেছেন, ‘এই মাঠে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু। জানি না আসলেই কালকের ম্যাচ দেখতে ৯০ হাজার মানুষ আসবে ​কি না। কিন্তু এখানে খেলতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। বাঙালি হিসেবে আশা করি পুরো কলকাতা আমাদের সমর্থন দেবে।’

এ মাঠের সঙ্গে আলাদা একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সাকিব আল হাসানেরও। আইপিএলে কলকাতার হয়েই খেলেন। ছয় বছরে একবারও দল না পাল্টে কেকেআরের পরিচিত মুখগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন। তা ছাড়া এমনও হয়েছে, কেকেআরের একাদশে হয়তো তিনি একাই কিংবা আর একজন ছিল বাঙালি। সাকিবের প্রতি এখানকার মানুষের আবেগটাও অন্য রকম।

ইডেন নিয়ে সাকিবেরও আবেগ কিন্তু আলাদা। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রথমবার দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে এই মাঠেই প্রথম নেমেছিলেন। প্রথম আলোকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎ​কারে সাকিব সেটা বলেছেনও, ‘কলকাতার মানুষ খেলাপাগল। অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। মিরপুরে বড়জোর ২৫-২৬ হাজার দর্শক থাকতে পারে। এখানে থাকে এর তিন গুণ। মিরপুরকে তিন দিয়ে পূরণ করলেই বুঝতে পারবেন এখানকার অবস্থাটা।’

সাকিবেরও আশা, আজ বাংলাদেশকেই সমর্থন দেবে পুরো ইডেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তো, এই ম্যাচেও সবাই আমাদের সাপোর্ট করবে। নিজের কথা যদি বলি, মিরপুরে খেলতে নামলে যেমন একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করে, এখানেও তা-ই করবে। পরিচিত জায়গা, সব চেনাজানা।’

আরও পড়ুন