রিজার্ভের অর্থ চুরির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর ফজলে কবির।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাবেক এ অর্থ সচিব। বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চুরি হওয়া অর্থের ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সোনালী ব্যাংকের সদ্যসাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে আস্থা রেখে আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমি প্রতিপালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তদন্ত কমিটি হয়েছে,ধরে ধীরে রিপোর্টে আসবে। ইতোমধ্যে যে বিপর্যয় হয়ে গেছে সেজন্য কোনো ড্যামেজ রিপেয়ার করার দরকার আছে কি না…এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয় কখনো সে বিষয়ে আমরা সবাই সচেষ্ট থাকব।’
বিমানবন্দর থেকে সোজা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের যান ফজলে কবির। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এ সময় সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
অর্থ চুরির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে কথা হয়নি বলেও জানান নতুন গভর্নর।
নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করার পর বুধবার সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এরআগে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নতুন গভর্নরের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী। ফজলে কবির বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম গভর্নর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া সাবেক আমলা ফজলে কবিরের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৮০ সালে রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে। তিন বছরের মাথায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। ২০১২ সালে অর্থ সচিবের দায়িত্বে আসার আগে রেল বিভাগের সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ফজলে কবির। জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন তিনি।


