বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

হামজা ব্রিগেডের ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

012চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের এক বছর পর জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বুধবার রাতে চট্টগ্রাম আদালতের জিআর (সাধারণ নিবন্ধন) শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

মামলার ১১ আসামির মধ্যে একজন পলাতক। আর বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন।

গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি হালিশহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কে ব্লকের ১ নম্বর লেইনের ১/১৯ নম্বর বাড়ির দোতলা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এই মামলা করে র‌্যাব।

ঘটনার দিন ওই বাড়ি থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া থানার বাসিন্দা ফয়জুল হক, তার বোন রহিমা আক্তার, বোনের ছেলে জায়েদুল্লাহ ও বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগপত্রে নাম আসা বাকি সাতজন হলেন- হামজা ব্রিগেডের সামরিক কমান্ডার মনিরুজ্জামান ওরফে ডন, আনোয়ার হোসেন, মো. শামসুদ্দিন, রাকিব হাসান, নাসির উদ্দিন খান, পারভেজ এবং ফয়জুলের ছোট ভাই আজিজুল হক।

আসামিদের মধ্যে পারভেজ এখনো পলাতক বলে লেফট্যানেন্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন জানান।

২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীতে জঙ্গি সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুই দিন পর বাঁশখালীর পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে গ্রেপ্তার হন আরও পাঁচজন।

এরপর বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি হালিশহরের ওই বাসায় পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক।

তবে এই তিনটি ঘটনার সঙ্গে নতুন জঙ্গি দল ‘শহীদ হামজা বিগ্রেড’ এর জড়িত থাকার কথা র‌্যাব কর্মকর্তারা জানতে পারেন গত বছর এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে নগরীর কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি রাইফেল ও পাঁচটি পিস্তলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর।

র‌্যাব অধিনায়ক মিফতা উদ্দিন বলেন, “হাটহাজারী ও বাঁশখালীর দুটি ঘটনাও একই সংগঠনের। তবে আইন অনুসারে নির্দিষ্ট ঘটনায় যারা সংশ্লিষ্ট, কেবল তাদেরই আসামি করা যায়। তদন্তে হালিশহরের ওই বাসায় বিস্ফোরক মজুদের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে- তাদেরই আসামি করা হয়েছে।”

হালিশহরের ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে ছিল ৭৬টি বোমা, ২৪ রাউন্ড গুলি, পাইপ বোমা তৈরির জন্য খালি পাইপ ও খালি পানির ফ্লাক্স।

বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে ছিল ৫০ কেজি অ্যালুমিনিয়াম ডাস্ট, ৩৫ কেজি পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ১০ কেজি সালফার, আট কেজি সোডিয়াম অ্যামাইড, পাঁচ লিটার নাইট্রোবেনজিন, চার কেজি আর্সেনিক ডি সালফাইড, ২৮০০ গ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও দুই কেজি চারকোল।

এছাড়া ৮৬ জোড়া জাঙ্গল বুট, ৯৭ জোড়া পিটি শু, ৯৬ জোড়া নাইলন বেল্ট ও ১৮৫ জোড়া মোজা পাওয়া যায় ওই বাড়িতে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মিফতা বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, নাশকতার জন্যই এসব বিস্ফোরক ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়েছিল।”

আরও পড়ুন