দলীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ‘পাকিস্তানি ভাবধারা’ থেকে বেরিয়ে আসতে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বলেছেন, বিএনপিকে ‘অতীতের ভুল রাজনীতি’ শুধরে আসার জন্যই সুন্দরভাবে কাউন্সিল করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
“তবে তারা এই সুযোগের অপব্যবহার করলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে। বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে।”
শনিবার সকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন করেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারে ইমাম বলেন, “আজকের এই দিনে বিএনপি জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সকল প্রকার অপরাজনীতি থেকে বের হয়ে আসবে বলে আশা করছি। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদেরকে পাকিস্তানের ভাবধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই আহ্বান জানানোর জন্যই বিএনপির কাউন্সিলের দিন ‘সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শিরোনামের এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাউন্সিলের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন চেয়েছিল বিএনপি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর স্থান সংকুলান নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ ব্যবহারের অনুমতি চাইলে তাতেও সায় দেওয়া হয়।
সেমিনারে বক্তব্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
তিনি বলেন,“বাংলাদেশে ধর্মের নামে যারা সাম্প্রদায়িকতা করতে চায় শুধু তারা নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষক, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী চায় বাংলাদেশের শিয়া-সুন্নি, মুসলমান-হিন্দুর মধ্যে একটা বিভাজন তৈরি হোক, এদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হোক।
“দেশের স্বার্থে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে কাউকে ছোট করে রাজনৈতিকভাবে হেয় করে দেখা হবে সন্ত্রাস নির্মূলের অন্তরায়।
“সাম্প্রদায়িক শক্তি মোকাবেলার জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সেমিনারে বক্তব্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে ব্যর্থ রাজনীতিক আখ্যায়িত করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী।
তিনি বলেন, “রাজনীতি তো মানুষের জন্য। মানুষকে ধ্বংস করে, সভ্যতাকে ধ্বংস করে বিএনপি কী পাবে?
“ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি নেত্রী ব্যর্থ। তার কুপুত্রও ব্যর্থ। এই দুই জনের সম্মিলনে যে পার্টি, একজন চেয়ারম্যান আর একজন কো চেয়ারম্যান এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।”
বিএনপি নেতৃত্বের কাছ থেকে কী পাবেন- নিজেদের কাছে এ প্রশ্নের জবাব খোঁজার জন্য কাউন্সিলে আগত দলটির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, “সারা দেশ থেকে যারা ওখানে (বিএনপির কাউন্সিলে) সমবেত হয়েছেন, তারা যেন নিজেদের একটা প্রশ্ন করেন- কী পাবেন এই নেতৃত্বের কাছ থেকে?”
বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ডাক্তার ভুল করলে একজন রোগী মারা যায় আর রাজনৈতিক নেতা ভুল করলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়।”
অনুষ্ঠানে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতা ও প্রাণহানির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বক্তব্য দেন।


