ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের জন্য আঙুলের যে ছাপ নেওয়া হচ্ছে তা কোথাও সংরক্ষিত হচ্ছে না। কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া আঙুলের ছাপের রেখাগুলোকে মেলাতে টেম্পলেট আকারে তা পাঠানো হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে গাজীপুর শহরের তেলিপাড়া এলাকায় টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-প্রকল্পের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তারানা হালিম।
মুঠোফোনের সিম নিবন্ধনের সময় আঙুলের ছাপ নিয়ে আদালতে রিট করার বিষয়ে তারানা হালিম বলেন, ‘যিনি ওই রিটটি করেছেন তা অনুমাননির্ভর ও ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে করেছেন। আমরা আদালতে প্রযুক্তির তথ্যনির্ভর ও প্রমাণনির্ভর সবকিছু উপস্থাপন করব। এতে এ রিটটি টিকবে বলে মনে করি না।’
তারানা হালিম বলেন, ‘২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্রডকাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা কমানো এবং দুর্গম এলাকায় সেবা বিস্তারের জন্য সরকার মহাকাশের কক্ষপথে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সমুদ্র জয় করেছি, এবার মহাকাশ জয় করার অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশ মহাকাশে থাকবে এটা একটা অন্যরকম বিজয়।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা অন্যদের স্যাটেলাইট ভাড়ায় ব্যবহার করে বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করছি। এ প্রকল্প স্থাপন সম্পন্ন হলে ছয়-সাত বছরের মধ্যে আমাদের স্যাটেলাইট অন্যদের ভাড়া দিয়ে এ প্রকল্পের খরচ তুলে আনতে সক্ষম হব। এটা একটা বিশাল প্রকল্প। এত বিশাল প্রকল্পের মাঝে সম্মানটাও বিশাল।’
তারানা হালিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের জন্য গাজীপুরে ও বেতবুনিয়ায় পাঁচ একর করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় এখন মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি আকাশে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হব। এ প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বর্তমানে এ কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ফ্রান্সের গায়ানা দ্বীপ থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। এটি মহাকাশে স্থাপনের লক্ষ্যে বিটিআরসি এরই মধ্যে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ৪৫ বছরের জন্য ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট ইজারা নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে স্যাটেলাইট প্রস্তুত উৎক্ষেপণ ও গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য বিটিআরসি ফ্রান্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থ্যালস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যাদেশ দিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী ঠিকাদার স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর জন্য এবং টেলিটকের উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এর দ্রুত উন্নতি হবে।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে বিটিআরসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফারজানা মান্নান, টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের পরিচালক মো. শাহজাহান আলীসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


