বাপ্পাদিত্য বসু।
এই ভারতকে চিনতে খুব কষ্ট হয়। এই ভারত কি সেই ভারত যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম সহায়তা করেছিল? এই ভারত কি সেই ভারত যার একজন জগমোহন ডালমিয়া ছিল? সেই ডালমিয়াই তো আমাদের ক্রিকেটের প্রতি পরম বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আসলে আজ ক্রিকেটে সত্যিই বড় বাণিজ্যের বসতি গজিয়েছে। এই বাণিজ্য মুনাফা এতোই লোভনীয় যে তা সকল মানবিক সম্পর্ককে পায়ে দ’লে। এ কারণে বাংলাদেশের মতো দেশের মানুষরা আজ ভারতের পরাজয় কামনা করে পাকিস্তানের পক্ষ নিতে বাধ্য হয়, কলকাতার মাঠে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের সমর্থক বেশি থাকে।
বাংলাদেশ~ভারতের এই বৈরিতার জন্য নিঃসন্দেহে দায়ী আজকের ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন। খেলা কোনোভাবেই রাজনীতির উর্ধে নয়। বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সরকার ও মানবতাবাদী ভারতের জনগণকে অবশ্যই তাদের ক্রিকেট প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপ করতে হবে। ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ~ভারতের সম্পর্কের অবনতি হলে তার লাভ যাবে শত্রুর ঘরে। আর দায় যাবে ভারতের কাঁধে। সহজে সে ক্ষত শুকাবে না। আরেক তিস্তা হয়ে তা দুই দেশের সম্পর্কে স্থায়ী ক্ষত হয়েই থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনেরও আরো দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। তাসকিনের হাতে ভারতীয় ক্রিকেটারের কাটা মুণ্ডু যারা তুলে দিয়েছিল, তাদের শাস্তির আওতায় আনাটাও আমাদের দায়িত্ব। এ ধরনের কোনো আচরণ আমাদের তরফ থেকে কখনাই কাম্য নয়। বাঙালি জাতি ভদ্র ও বীরের জাতি। আমরা লড়ে জিতি, এ ধরনের গলিপথে নয়। গলিপথের কাপুরুষদের খুঁজে বের করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিক বাংলাদেশ সরকার।
ভারতের সাম্প্রতিক অক্রিকেটীয় আচরণের প্রতিবাদে আমি আজ কোনোভাবেই ভারতের সমর্থন করি না, করতে পারি না। কিন্তু তাই বলে আমি আমার আজন্ম শত্রু পাকিস্তানের পক্ষেও যেতে পারি না। এটা আমার আজন্ম শপথ। পাকিস্তানের প্রতিটি পরাজয় আমাকে অসম্ভব মানবিক আনন্দ দেয়।
বাপ্পাদিত্য বসু: সাপ্তাহিক নতুন কথার নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি এবং গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক।


