বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আমাদের লক্ষ্য একটাই ‘ক্ষমতা’: এরশাদ

ARSHAD-1420094562বিএনপির কাউন্সিলের পরদিন নিজের জন্মদিনের কেক কেটে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদেরও সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, “আগামী ১৬ এপ্রিল আমাদের কাউন্সিল। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা কারও চেয়ে ছোট নই। আমাদের লক্ষ্য একটাই – ক্ষমতা। আমরা আবার ক্ষমতায় আসব। তোমরা প্রস্তুত তো?”

জবাবে উপস্থিত কর্মী সমর্থরা ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ’ আওয়াজ তোলেন।

গুলশানের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এরশাদ আরো বলেন, “সামনে আমাদের সুদিন। দলকে শক্তিশালী কর। মানুষকে ভালবাস। অতীতের দুঃখ-গ্লানি-হতাশা ভুলে যাও।”

এরশাদ প্রতিবছর ২০ মার্চ কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদযাপন করলেও জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইটে তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০। আসল জন্ম তারিখ আর শিক্ষাগত সনদের জন্মতারিখ এক না হওয়ায় এই বিভ্রাট বলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দাবি।

অবশ্য ১৬ এপ্রিল জাতীয় পার্টির কততম কাউন্সিল হবে- তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি দলের কেউ।

চেয়ারম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে রোবাবার সকাল থেকেই ব্যাস্ত ছিলেন কর্মী সমর্থকরা। এরশাদ নিজেও দফায় দফায় কেক কেটেছেন।

সকাল ৯টায় বনানীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি ঢাকা উত্তরের আয়োজনে প্রথমবার কেক কাটেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় গুলশানে আসেন।

সেখানে জাতীয় পার্টির একাধিক অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ সংগঠনের নাম সম্বলিত কেক নিয়ে চেয়ারম্যানের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।

কর্মী-সমর্থক পরিবেষ্টিত অবস্থায় সবগুলো কেক কাটেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়াম কমিটির অধিকাংশ নেতাসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বরাবরের মতোই এরশাদের স্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে দেখা যায়নি।

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম নেতা ও জাতীয় পার্টি ঢাকা উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সাল চিশতী অনুষ্ঠানে এরশাদের পাশে ছিলেন। তবে ‘রওশনপন্থি’ নেতা হিসেবে পরিচিত প্রেসিডিয়াম সদস্যদের দেখা যায়নি সেখানে।

উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের এরশাদ বলেন, “তোমাদের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ, আপ্লুত। তোমরা আমার সন্তান। সন্তানের মধ্য দিয়েই পিতা বেঁচে থাকে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের প্রসঙ্গ টেনে এরশাদ বলেন, “ব্যাংক লুট হচ্ছে। এর কারণ কী? কারণ হলো সুশাসনের অভাব। দেশে সুশাসন নেই, দুর্নীতি পাহাড় প্রমাণ। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে সুশাসন ফিরে আসবে, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দুর্নীতি নির্মূল হবে।”

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল ছয় বছর। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

২০০৯-১৩ সময়ে মহাজোটের শরিক হিসাবে সরকারের সঙ্গে থাকলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ও বিরোধী দল- দুই জায়গাতেই জাতীয় পার্টিকে দেখা যাচ্ছে।

এরশাদ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতের ভূমিকায় আছেন, তার স্ত্রী রওশন এরশাদ রয়েছেন বিরোধী দলের ভূমিকায়।

রংপুরের সন্তান এরশাদ ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ আর্মি স্টাফ থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষমতা নেন এবং ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে দেশ শাসন করেন।

পরে বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করে নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এরশাদ। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে তার সরকারের পতন ঘটে।

ক্ষমতায় থাকতেই ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করেন এরশাদ। শুরু থেকেই তিনি দলের চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন