সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজডুবির ঘটনায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বন বিভাগ।
এদিকে নতুন করে দুর্ঘটনা এড়াতে শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক (সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ) আর্শাফুজ্জামান বলেন, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নির্দেশে বিআইডব্লিটিএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই তা কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি জানান, এখন থেকে শ্যালা নদীর পরিবর্তে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথটি ব্যবহৃত হবে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে কোস্টগার্ড, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে বলেও জানান আর্শাফুজ্জামান।
তবে শ্যালা নদীর কলাভোলা এলাকায় ১ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে লাইটার জাহাজডুবির দেড় দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা।
এতে করে লাইটার জাহাজে থাকা জ্বালানি তেল ধীরে ধীরে জোয়ার-ভাটার পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ডলফিন প্রজাতির অভয়াশ্রম ও মাছের প্রজনন ক্ষেত্র বলে পরিচিত শ্যালা নদীতে প্রাণবৈচিত্রের ক্ষতির আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে শনিবার বিকালে সি হর্স-১ নামের নৌযানটির তলা ফেটে গেলে সেটি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ডুবে যায়।
কোস্টার ডুবির পর রোববার রাতেই জাহাজের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
আর রোববার রাতে শরণখোলা থানায় গিয়ে কোস্টারের মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করেন বন বিভাগের ধান সাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ।
বন বিভাগের এ মামলায় নৌযানটির মালিক ও মাস্টারসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন- কোস্টার সি হর্স-১ এর মালিক মনিরা কবির, কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হালিশহরের সমতা শিপিং ট্রেডার্সের মালিক মো. আজিজুর রহমান, ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন, কোস্টারের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, চালক ইসমাইল ফরাজী এবং সুকানি সাইদুল ইসলাম।
এ ছাড়া মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিটিএ কর্তপক্ষ ডুবন্ত লাইটার জাহাজের মালিকপক্ষকে দ্রুত যুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবেন।
এর আগে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এই নদীতে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি ওয়েল ট্যাংকার ডুবে যায়। পরে এই নৌপথটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
তবে মংলা বন্দরের বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী বন্ধ থাকায় কিছুদিনের মাথায় শ্যালা নৌপথটি পুনরায় চালু করে বিআইডব্লিটিএ।
এরপর থেকে সুন্দরবনের এই নৌপথটিতে যান চলাচল বন্ধ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে।


