বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজ দায় ঢাকার চেষ্টা করছেন- এমন মন্তব্য ওয়ার্কার্স পার্টির। দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘যেকোনো সভ্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনার দায় স্বীকার করে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি জাতীয় স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে।’
সোমবার বিকেলে (২১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্যাংকিং সেক্টরের আর্থিক দুর্নীতি লুটপাট এর বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য বলেন।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করার কথা বলছেন। অথচ হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকের ৪৫০০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনাকে তিনি ‘কিছুই না’ বলে অভিহিত করেছেন।’
বাদশা আরো বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে মনে করি- সাংবিধানিক বিধানমতে রাষ্ট্রীয় দায়-দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থার সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব প্রধানত অর্থমন্ত্রীর। অপরাধী চিহ্নিত করা হোক- আমরা তা চাই। কিন্তু তার মানে এই নয়, অর্থমন্ত্রী দায় এড়িয়ে অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার কারণে টাকা চুরি যাওয়া জাতির জন্য অশনি সঙ্কেত। বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লুটপাটের বিরুদ্ধে বিশেষ করে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি সম্পর্কে আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছিলাম। ওয়ার্কাস পার্টি ইব্রাহীম খালেদ তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট এর ভিত্তিতে মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অর্থমন্ত্রী নিজের দায় এড়িয়ে এবং রাজনীতির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরসহ সকল আর্থিক খাতে দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ এবং দক্ষ ও যোগ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ‘যুবক’ ‘ডেস্টিনি’ ‘ইউনিপে-২’সহ ফটকাবাজ কোম্পানির লুটে নেয়া অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে ফেরত দেয়ারও দাবি জানান তিনি।
পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পলিটব্যুরো সদস্য কামরূল আহসান, মোস্তফা আলমগীর রতন ও সাব্বাহ আলী খান কলিন্স প্রমুখ।


