বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

পাশবিক কায়দায় শিশু হত্যা: ২ জনের ফাঁসি

Law-TOPএগারো বছর আগে এক শিশুকে পাশবিক কায়দায় হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। অজ্ঞাত আট থেকে দশ বছরের সেই ছেলেটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর হেকস ব্লেড দিয়ে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করেছিল খুনিরা। সেই কাটা মুণ্ডু দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

সেই মাথাসহ ২০০৫ সালের এপ্রিলে জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই খুনি। এরা হলো- মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে মো. রাজিব ওরফে গোলাম রব্বানি ওরফে শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং মো. জাকির হোসেন।

সোমবার তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিরীহ নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এই নির্মমতা, নৃশংসতা আসামিদের জঘন্য ও ভয়ঙ্কর মনোবৃত্তির পরিচায়ক। এই বিবেচনায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়াই সমীচীন মনে করি।”

আদালত যখন ফাঁসির রায় ঘোষণা করে, দুই আসামি তখন কাঠগড়ায়।

রায় শুনেও তারা নির্বিকার ছিলেন বলে জানান এ আদালতের পেশকার কল্যাণ কুমার সিংহ।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কল্যাণ কুমার জানান, ২০০৫ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকার শাজাহানপুর ওভারব্রিজের নিচ থেকে স্থানীয় জনতা একটি ব্যাগসহ শংকর ও জাকিরকে আটক করে। তাদের ব্যাগে পাওয়া যায় এক বালকের কাটা মাথা।

এ বিষয়ে মামলা হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পান রেল পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম। ওই বছর ১ জুলাই তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

তদন্ত চলাকালে দুই আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কারণসহ পুরো বিবরণ তুলে ধরেন।

আদালতকে আসামিরা বলেন, হোটেলে কাজ দেওয়ার কথা বলে একটি বনরুটি ও দুটি কলা কিনে দিয়ে ওই শিশুকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে করে জয়দেবপুরে নিয়ে যান তারা।

ভাওয়ালের শালবনে নিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ধড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাপড় ও পলিথিনে পেঁচিয়ে নিয়ে ঢাকায় ফেরেন শংকর ও জাকির; ধরা পড়েন জনতার হাতে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, পল্টনের গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের গলিতে আব্দুর রব নামে এক দর্জির কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করার জন্য তাকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে দুই আসামি। ওই পরিকল্পনা থেকেই ছেলেটিকে কাজ দেওয়ার কথা বলে হত্যা করে তারা।

হাকিমের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও আসামিরা বিষয়টি স্বীকার করে বলে কল্যাণ কুমার জানান।

মামলার নথিতে দেখা যায়, শংকর পুরান ঢাকার নারিন্দা টেইলার্স নামে একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ছয় জনের জবানবন্দি শোনেন বিচারক।

আরও পড়ুন