বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মুহিতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র: তিনিই অর্থমন্ত্রী থাকবেন

IMAG0932মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহলম।

আবারও শুরু হয়েছে সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে নিয়ে নুতন করে ষড়যন্ত্র। এর আগেও আরো অনেকবার তাকে মন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কান ভারী করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে খুব ভালো করেই চিনেন এবং জানেন। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্ত অবস্থায় ধরে রাখতে তার অবদানের সীমা নেই। এই বয়সেও তিনি নিস্বার্থভাবে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এধরনের একজন সৎ নিষ্ঠাবান মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী কখনই হাতছাড়া করতে চাইবেন না। আর চাইবেনই বা কেন? সুতরাং বার বার তার বয়সের কথা কিংবা বিভিন্ন বক্তব্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে যে যত কিছুই বলুক বা করুক না কেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মুল্য সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভালো করেই অবহিত আছেন।

এখন আবার নুতন করে বাংলাদেশ গভর্নরের পদতেগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে জড়িয়ে নানা সমালোচনা মিডিয়ায় লেখা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ গভর্নরের নিযুক্তি কে দিয়ে থাকেন? নিশ্চই অর্থ মন্ত্রী? তবে এই নিযুক্ততার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সন্মতির প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং যিনি গভর্নরকে নিযুক্ত করেছেন তার কাছেই কি পদতেগ পত্র দেওয়া উচিত ছিল না। তা না করে আতিউর রহমান কেন সরাসরি গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে? এছাড়া বাংলাদেশ বেঙ্কের ৮০০ কোটি টাকা চুরি হওয়ার সংবাদ তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে কেন গোপন রেখেছিলেন? রাষ্ট্রের এতবড় একটা ক্ষতি গভর্নরের অবহিত হওয়ার সাথে সাথে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে কি জানানো জরুরি ছিল না ?

তবে এটা সত্যি যে আতিউর রহমান নিজেও একজন অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান। এবেপারে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও তিনি খুব কাছের ও নির্ভরশীল বেক্তি। এমন একজন বেক্তি জেনে শুনে কেন এধরনের পথে পা দিতে গেলেন এই প্রশ্ন আজ সকলের? সাবেক গভর্নর আতিয়ার রহমানের তো এমন হওয়ার কথা নয়। তিনি কি তাহলে অন্য কারো শিকার ? তারা কারা যারা এধরনের কাজ করার সাহস পায়? আমাদের আজ সেদিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বেঙ্কের সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনগণ আশা করবে দেশের এতবড় ক্ষতি যারা করেছেন তারা যত শক্তিবান হউক না কেন তাদের যেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। জনগনের প্রত্যাশা তদন্ত কমিটি যেন তদন্তকে ধামা চাপা দিয়ে না রাখে। তাহলে দোষটা সরকারের উপরেই এসে পড়বে। আর সরকারের উপরে পরা মানেই হলো বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ভার বহন করতে হবে। বিএনপি সহ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তখন বর্তমান সরকারের সমালোচনায় এগিয়ে আসবে। আসার সুযোগ পাবে ইতিমধ্যে দুই একজন সরকারের বড় বড় হোমরা চমড়ার হাত আছে বলে সন্দেহ করছেন।

৮০০ কোটি টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টিকে অর্থমন্ত্রী কঠিনভাবে গ্রহণ করেছেন। সাবেক গভর্নর আতিয়ার রহমান চুরি যাওয়ার বিষয়টি লুকিয়ে রাখার কারণে অর্থমন্ত্রী রেগে গিয়ে মিডিয়ায় কিছু কথা বলে থাকতে পারেন। কিন্তু এই কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছেন আশাকরি অতীতের মত তারা এবারও সফল হতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিতের উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা আছে, আস্থা থাকবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস করেন দেশের এই অর্থনৈতিক অবস্থানের সকল পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন আব্দুল মাল মুহিত। সুতরাং তিনি অর্থমন্ত্রী আছেন, অর্থমন্ত্রী থাকবেন বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এবারও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুল করবেন না, ভুল করতে পারেন না। সবচেয়ে দুক্ষ:জনক হলো এবার মিডিয়াও তার বিরুদ্ধে উঠে পরে লেগেছে। কিছু কিছু পত্রিকায় তার আগাম পদতেগের সংবাদ ও এম এ মুহিতের কাজে প্রধানমন্ত্রী অসন্তষ্টতা প্রকাশ করেছেন বলেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এখন দেখা যাক এই সৎ, অত্যন্ত সক্রিয় ও নিষ্ঠাবান অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিতের ভবিষ্যত তাকে কোথায় নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন