জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি।
‘অবৈধ’ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগের কথা বলে তাসকিনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। এতে তাসকিনের টি ২০ বিশ্বকাপ মিশন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যা বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন শক্তি বাংলাদেশকে বড় ধরণের চাপের মুখে ফেলে দেয়।
কোনো টুর্নামেন্টের মাঝখানে আইসিসির এ সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট অনুরাগী। এছাড়াও ইয়ান চ্যাপেল, শোয়েব আখতারসহ খ্যাতিমান ক্রিকেটাররা আইসিসির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে।
এর মধ্যেই তাসকিনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিসির কাছে আপিল করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি।
টাইগার বোলারদের নিষিদ্ধ করার ঘটনা বিষয়ে রোববার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসায় বিশেষ বৈঠকে বসেন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি বলেন, তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিসিবি। তার নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে। আবেদন বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে আইসিসি। আশা করি, খুব শিগগিরই মাঠে ফিরবে সে।
তাসকিনকে ফেরাতে আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর ও প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন বিসিবি সভাপতি।
বৈঠকের পর পরই বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচেই তাসকিন ফিরতে পারেন বলে ক্রিকেটাঙ্গনে গুঞ্জন উঠে।কিন্তু নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি খেলতে পারেননি।
নিষেধাজ্ঞায় ক্রিকেটবিশ্বে সমালোচনার ঝড়: তাসকিনের বিরুদ্ধে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটবোদ্ধারা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানান। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইয়ান চ্যাপেল,টুর্নামেন্টের মাঝপথে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা অযৌক্তিক। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি টুর্নামেন্টের মাঝপথ থেকে ছিটকে পড়লেন। এটা না করে টুর্নামেন্টের শুরুর আগেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেত।’ ক্রিকইনফোর এই ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এর কোনো যৌক্তিকতা আছে। টুর্নামেন্টের মধ্যপথ থেকে বাদ দেয়া অত্যন্ত রূঢ়
সোমবার টুইটে পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার বলেন, সত্যিই তাসকিনকে খুব অনুভব করছি। ওর জন্য খারাপ লাগছে। তবে আমার আশা খুব শিগগিরই ও আইসিসির ছাড়পত্র পাবে। তাসকিনকে ক্রিকেট বিশ্বের বড় সম্পদ বলেও অভিহিত করেন শোয়েব।
উল্লেখ্য, টি ২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আম্পায়াররা পেসার তাসকিন ও স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে আইসিসিতে রিপোর্ট করেন। এরপর চেন্নাইয়ের আইসিসি অনুমোদিত ল্যাবে বায়ো-মেকানিক্যাল পরীক্ষা দেন দুই টাইগার বোলার।
শনিবার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আইসিসি। এতে তাসকিন এবং সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে তাদের সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়।


