বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের রাজকোষ কেলেংকারি: চাকরি হারালেন দেগুইতো

6783_aaaবাংলাদেশের রাজকোষ কেলেংকারিতে বরখাস্ত করা হয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার শাখা ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতো ও তার ডেপুটি অ্যানজেলা তোরেসকে। আরসিবিসি প্রধান কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। ওদিকে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) মঙ্গলবার চীনা দু’ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশী ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির দায়ে ফৌজদারি অভিযোগ এনে মামলা করেছে।

ওই দুই ব্যবসায়ী হলেন চীনা একটি ক্যাসিনো অপারেটর সু ওয়েইকাং এবং কাগাইয়ান ভিত্তিক রেস্তোরাঁর মালিক কাম সিন ওং (যিনি কিম ওং নামেই বেশি পরিচিত)। বাংলাদেশের চুরি যাওয়া অর্থ তাদের ব্যক্তিগত একাউন্টে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসার পর এ ব্যবস্থা নেয়া হলো। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে মঙ্গলবারই বরখাস্ত করা হয়েছে আরসিবিসির জুপিটার শাখা ম্যানেজার দেগুইতো ও তার ডেপুটি অ্যানজেলা তোরেসকে।

ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক প্রধান মারিয়া সেসিলা ফার্নান্দেজ-এস্তাভিলো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ব্যাংকের অন্যান্য শাখা ও ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগামী কিছুদিনের মধ্যে চাকরিচ্যুতি থেকে সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তা করা হবে ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হলেই।

আরসিবিসি বলছে, দেগুইতো ও তোরেস ব্যাংকের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। তারা বাংলাদেশী অংশ চুরিতে সহায়তা করেছেন। এস্তাভিলো বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেগুইতো ও তোরেসের বিরুদ্ধে আদালতে যথাযথ অভিযোগ করা হবে। ওদিকে নয় পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে এএমএলসি। তাতে বলা হয়েছে, অর্থ পাচারের সব বিষয় এ মামলায় রয়েছে। এর মধ্যে সু ওয়েইকাং ও কিম ওং অর্থ নিয়েছেন। এএমএলসির তদন্তে দেখা গেছে যে, আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখার মাধ্যমে সন্দেহজনক নামের চারটি একাউন্টে পাচার করা অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব একাউন্ট খোলা হয় ২০১৫ সালের ১৫ই মে।

এএমএলসি কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ বলছে, সু ওয়েইকাং ও কিম ওং অর্থ পাচার করেছেন এর বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। তারা অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়েছেন। তারপর তা নিজেরা দখলে নিয়েছেন। অবৈধ উপায়ে তারা তা করেছেন। সিনেট ব্লু রিবোন কমিটির তদন্ত উল্লেখ করে এএমএলসি বলেছে, সু ওয়েইমাংয়ের নামে বেশ কয়েকটি একাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৪৯ হাজার ডলার। রেমিটেন্স ফার্ম ফিলরেম সাক্ষ্যে বলেছে, চুরি যাওয়া অর্থের ৩ কোটি ৫ লাখ ৬৫ হাজার ডলার গত ৫ থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে সু ওয়েইকাং পেয়েছেন। এ ছাড়া ২ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জমা হয়েছে ব্লুমবেরি রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেল ইনকরপোরেশনে ৫ থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এ সংস্থাটি পরিচালনা করে সোলাইর রিসোর্ট ক্যাসিনো। এএমএলসি বলেছে, সোলাইর করপোরেট সেক্রেটারি সিলভারিও তান সিনেটে নিশ্চিত করেছেন যে, রেজিস্টারড ক্যাসিনো জাঙ্কেট অপারেটর সু-এর একাউন্টে এ টাকা জমা হয়েছে। তখনই এগুলোকে চিপসে পরিবর্তন করা হয়। ইস্যু করা হয় ক্যাসিনোর নিয়মিত খেলোয়াড়দের মাঝে।

চুরি যাওয়া অর্থের ২ কোটি ১৬ লাখ ডলার কিম ওংয়ের একাউন্টে জমা করে ফিলরেম। এক্ষেত্রে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাওয়াই লিজার কোম্পানি লিমিটেডের নামে ফিলিপাইন ন্যাশনাল ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করা হয়। নিজের কোম্পানিতে কিম ওং নিজেই প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার। তার কোম্পানিতি সংগঠিত হয় হংকং থেকে। ওই একাউন্ট থেকে ওং ৯০ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার পেসো তার ব্যক্তিগত একাউন্টে স্থানান্তর করেন। পরে সেখান থেকে উত্তোলন করেন ৪০ কোটি পেসো। তারপর থেকে তার একাউন্ট জব্দ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন