বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় সুইফটের নেটওয়ার্ক হ্যাকড হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গটফ্রাইড লেইব্র্যান্ড।
গত সোমবার এক বার্তায় বাংলাদেশে সুইফট ব্যবহারকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। সুইফটের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ‘হ্যাকড’ হওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
একই সঙ্গে সুইফট নেটওয়ার্কের সঙ্গে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কম্পিউটারের সংযোগ থাকায় সুইফট কর্তৃপক্ষ বিস্ময়ও প্রকাশ করেছে।
সুইফটের সিইও জানান, “গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে অননুমোদিত অর্থ পরিশোধের বিষয়ে নানা ধরনের প্রতিবেদন হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর কোনো মন্তব্য করতে পারি না। আমরা শুধু এটা জানাতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনা সুইফটের ‘কোর মেসেজিং সার্ভিস’-এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।”
বেলজিয়ামভিত্তিক বৈশ্বিক এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, ‘সুইফট তার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। আমরা গ্রাহকদের ঝুঁকি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করি।’ নিজস্ব নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং এর নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব গ্রাহকদের উল্লেখ করে নিজস্ব সিস্টেমে ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুইফট।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ফায়ারআই’ ও ‘ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স’ তাদের অন্তর্র্বতীকালীন প্রতিবেদনে বলেছে, হ্যাকাররা সুইফট নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপনকারী সার্ভারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার স্থাপন করতে সক্ষম হয়। এ সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম আয়ত্তে নিয়ে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয় হ্যাকাররা। সুইফটের নিজস্ব নেটওয়ার্কে হ্যাকাররা ঢুকতে পেরেছিল কি-না তা নিয়ে তারা তাদের প্রথম প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করেনি।
আলামত পরীক্ষা করবে সিআইডি
সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কম্পিউটারের সংযোগ ছিল। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত এই বিপুল সংখ্যক কম্পিউটার সুইফটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় হ্যাকাররা তথ্য পাচার করতে সুবিধা পেয়েছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুইফট নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতো, তা পরীক্ষা করে দেখবে সিআইডি। তথ্য পাচার করতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে সুইফটের সঙ্গে স্থানীয় নেটওয়ার্কে এই বিপুল সংখ্যক সংযোগ দিয়েছিল কি-না, তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু আলামত জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী দল।
গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে হ্যাকাররা হানা দিয়েছিল। তবে তাতে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি-না তা জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে, রিজার্ভের টাকা চুরির বিষয়ে তদন্ত শেষে সুইফটের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশ ছেড়েছেন। এ ঘটনায় জব্দ করা ব্যাংকের কম্পিউটার হার্ডডিস্কের ফরেনসিক পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সূত্র জানায়, সুইফট নেটওয়ার্কের সঙ্গে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কম্পিউটারের সংযোগ থাকায় সুইফট কর্তৃপক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সুইফট কর্তৃপক্ষের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।


