বাংলাদেশে রেলওয়ের দুই অঞ্চলের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও রেল সম্পদ ও যাত্রীদের যানমাল রক্ষাকারী দায়িত্বশীল ট্রেন চালকদের (এলএমদের) চরমভাবে অবহেলা করা হচ্ছে । চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনকে রক্ষা করলেও তাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে না । ফলে দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালকদের মধ্যে ক্রমান্বয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে । রেলওয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ও গণমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এসব তথ্য জানাগেছে।
সূত্রমতে, দেশে রেলওয়ের দু’বিভাগে ব্রডগেজ ও মিটার গেইজ ইঞ্জিনে অন্ততঃ চল্লিশেরও অধিক দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক দীর্ঘদিন থেকে নানা প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন । শুধুমাত্র তাদের দক্ষতার কারণে মাঝে মধ্যেই যাত্রীবাহী ট্রেন দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং অসংখ্য যাত্রীরাও পঙ্গুত্ব বরণ এমনকি প্রাণে রক্ষা পাচ্ছে।
রেল বিভাগের প্রধান সেবক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত দক্ষ চালকরা (এলএএমরা) দূর্ঘটনামুক্তভাবে ট্রেন চালানো এবং দ্রুতগামী চলন্ত ট্রেনকে দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করলেও অবহেলা করে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছেনা । দু’অঞ্চলের অনঅনুমোদিত অসংখ্য লেভেলক্রসিং গেট রয়েছে । এসব গেটে গেটেম্যান নেই । গেটম্যানও নিয়োগ করাও হচ্ছেনা । উন্নয়ন ও জনসংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে অনঅনুমোদিত গেটের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে । এমনকি অনুমোদিত লেভেলক্রসিংগেটেও দক্ষ গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছেনা । যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অযোগ্যতার অভিযোগ রয়েছে । আবার অনেককেই রাজনৈতিক চাপে নিয়োগ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে । ফলে লেভেলক্রসিংগেটসহ দিনদিন রেলরুটের বিভিন্নস্থানে দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরো বেশী দূর্ঘটনা ঘটারও আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
এসব নানা প্রকার সমস্যার মধ্যেও চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন । যে কোনও ছোট খাটো সমস্যার সৃষ্টি হলেই কর্তৃপক্ষ চালকদের শাস্তি দিয়ে থাকেন । কোনও কোনও ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণও আদায় করা হয়ে থাকে । অথচ ভালো কাজের জন্য কোন পুরস্কার বা উৎসাহ প্রনোদনার ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছেনা।
গত ৫ মার্চ সকালে আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার পর ৭০/৭২ কিঃ মিটার গতিতে চলতে থাকে । ১৩০ মেঃ টন ওজনের যন্ত্রদানব ইঞ্জিনটি ১২ টি যাত্রীবাহী কোচ নিয়ে চলতে থাকে। ট্রেনটি যখন ই/৪৫ নম্বর লেভেল ক্রসিং গেটের ১০০ মিটার দুরে ঠিক তখন গতানুগতিক গেটসিগন্যাল অকার্যকর থাকে। গেটম্যান লাঠিতে জড়ানো লালফ্লাগ বগলে রেখে সবুজ ফ্লাগ হাতে নিয়ে ট্রেন অগ্রসরের সিগন্যাল দিতে থাকেন। এ অবস্থায় ট্রেন অগ্রসর হতে থাকে।
এমন সময় খোলাগেটের উভয় পাশ থেকে দু’টি যাত্রীবাহী বাসকে গেট পার হতে দেখে দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক এমার্জেন্সী ব্রেক ধরে ট্রেনটিকে থামিয়ে দিলে ট্রেন ও বাস দু’টি দূর্ঘটনা মুক্ত হয়। অনেকেই প্রানে রক্ষা পায় এবং অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ থেকে রক্ষা পায়। এমনকি রেল সম্পদও রক্ষা পায়। এঘটনার পর গণমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন মিডিয়ায় ট্রেনচালকের পক্ষে প্রশংসার ঝড় ওঠে।
কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সঠিক বলে তদন্তে প্রমান পায়। দোষী ও অযোগ্য গেটম্যানের শাস্তি দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানা না গেলেও চালককে এখন পর্যন্ত উৎসাহ প্রনোদোনা বা পুরস্কৃত করা হয়নি।


