বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কালরাত্রি: শহীদদের স্মরণে আলোর যাত্রা

Candle+Light_Tonu_Protestস্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে মোমবাতি জ্বেলে কালরাতে পাক হানাদারদের হাতে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মরণ করলেন হাজারো জনতা।

শুক্রবার রাতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ চত্বরে ‘আলোর যাত্রা’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিলেন নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগে রাত ১২টায় মোমবাতির আলোক প্রজ্জ্বলন পর্বের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এর আগে বাচিকশিল্পী শিমুল মোস্তফার কন্ঠে কবি শামসুর রাহমানের ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতার মধ্য দিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানের সুচনা হয়ে।

এরপর কন্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, এলিটা, কোনালসহ অন্যান্য তরুণ শিল্পীরা একে একে শোনান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আলোচিত গান।

‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানগুলো কিছুক্ষণের জন্য হলেও একাত্তরকে ফিরিয়ে এনেছিল ২০১৬-এ।

৪৫ বছর আগের সেই ভয়াল ২৫ মার্চের কালরাতের দুঃসহ স্মৃতি কণ্ঠে তুলে আনেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের ও লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

আলী যাকের বলেন, “১৯৭১ সালের সেই ২৫ মার্চ রাতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার প্রস্তুতির কথা শুনে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে নিশ্চিত হই- কিছু একটা হতে যাচ্ছে।

“বড়দের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজার বাগের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিই। রাত ১২টায় ঘাতকরা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ট্যাংক নিয়ে আক্রমণ করে।”

সৈয়দ শামসুল হক বলেন, “একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি ছিলাম গ্রিন রোডের বাসায়। সেই রাতে শত্রু বাহিনীর গোলার আগুনে আকাশ রক্তিম হয়ে উঠেছিল। পুলিশ, চাকরিজীবী সাধারণ মানুষের লাশে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিল পরিচিত জনপদ।”

আলোকযাত্রা অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন