যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর রায়ের আগে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করবেন কি না সে প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেছেন, “একটু অপেক্ষা করুন।”
আর কোনো কথাই বলতে রাজি হননি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রোববার দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক সপ্তাহের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এরপর নিজের মন্ত্রণালয়ে এসে কিছুক্ষণ থেকে বেরিয়ে যান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল।
তার একান্ত সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, মন্ত্রী বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রণালয়ে এসে ১টার দিকে বের হয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সুমন মেহেদিও একই কথা জানান।
টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আমার উকিলদের জিজ্ঞেস করেন।”
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, “আদালতের এখতিয়ারের উপরে তো কথা বলা যায় না, কোনো মন্তব্য নেই।”
রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন কি না সে বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।
দুই মন্ত্রীর হয়ে আদালতে আইনি লড়াই চালানো আবদুল বাসেত মজুমদারও রিভিউ প্রসঙ্গে মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
রায়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।”
আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর কামরুল ও মোজাম্মেল আর মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন কি না- সেই প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টা ‘নৈতিকতার’।


