আগামী ৩০ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, এই এক ঘণ্টা বন্ধ রেখে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সামনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী তনু হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ।
রোববার বিকেলে কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে হাজারো জনতার উপস্থিতিতে একটি সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন ডা. ইমরান।
তনু ইস্যুতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা অভিমুখী রোডমার্চ কেন্দ্র করে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জনতা যেহেতু নেমেছে সেহেতু তনু ধর্ষক-হত্যাকারীদের রেহাই নেই উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, দেশের সবাই নিজ নিজ স্থান থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদে জ্বলে উঠুন।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে ইমরান বলেন, তনুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে, ঘরে বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের মতো তনুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাইবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে ইমরান এইচ সরকার বলেন, যে সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সে সেনাবাহিনীর হাত ধর্ষণের রক্তে রাঙা থাকুক, আমরা চাই না।
২-৪ জন ধর্ষকের জন্য দেশের-সেনাবাহিনী বিশ্ববাসী অসম্মানিত হোক চাই না। সেনাবাহিনী ধর্ষকদের বিচার করে আমাদের দেখাক, তারা এর পক্ষে নয়, তারা দায়িত্ব নিক।
সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ তুলে ডা. ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন এলাকা সেনানিবাসে কীভাবে, কে তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করল, এটি আমাদের প্রশ্ন।
সমাজের সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবার আহ্বানও জানান ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। না হলে অন্যায়কারীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। যার যতো মতভেদ থাকুক না কেন, জাতীয় ¯^ার্থে সবাইকে এক থাকতে হবে। বিভাজিত হলে অন্যায়কারীরা আমাদের নিয়ে উপহাস করবে।
তিনি বলেন, আমাদের আশংকা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি ঘটনাকে আড়াল করতেই কী তনু হত্যা? দেশের একটি সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, একটা দিয়ে আরেকটা আড়াল করা। তনুকে নিয়ে খবর প্রকাশে কারা গণমাধ্যমকে আটকে দিয়েছিল, জানতে চাই। জোরালো স্লোগানের মাধ্যমে সরকার-বিচার বিভাগকে জানাতে হবে, ফাঁসিই ধর্ষণকারীর একমাত্র শাস্তি।
সুশীল সমাজ-গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো রক্তচক্ষুকে আপনারা ভয় পাবেন না।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ ঢাকা থেকে আগতদের পেয়ে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় উত্তাল করে তুলেছে স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।
রোববার দুপুর সাড়ে ৪টায় ইমরান এইচ সরকার পৌঁছান কান্দিরপাড়ে। সেখানে হাজার হাজার জনতা তাকে স্বাগত জানান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় সমাবেশ।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কোথায় তারা। এসব বিষয় নিয়ে তো তাদেরই আন্দোলন করার কথা। কিন্তু করতে হচ্ছে, আমাদের, সাধারণ মানুষদের।
কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংক প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইমরান এইচ সরকার ছাড়াও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক লাকি আক্তার, ভাস্কর রাসাসহ কুমিল্লার স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বক্তৃতা প্রদান করেন।
এদিকে এই সমাবেশ উপলক্ষ্যে ময়নামতি থেকে টমছম ব্রিজ হয়ে কান্দিরপাড় পর্যন্ত পথে পথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে গণজাগরণ মঞ্চের আগমন কেন্দ্র করে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি থানার ওসি উত্তম কুমার।
রোববার দুপুর তিনটা দশ মিনিটে রোডমার্চের ৪৫ সিটের ৫টি বাস ময়নামতি বাসস্ট্যান্ডে সেনাকল্যাণ মার্কেট প্রাঙণে দাঁড়ায়। এসময় কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের অনুরোধ করেন, যাতে এখানে এবং সেনানিবাসের প্রধান ফটক বরাবর যাতে কোনো সভা না করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে সেনানিবাসের কিছুটা দূরে পথসভা শুরু করা হয়।
এদিকে, রোডমার্চ ময়নামতিতে আসা মাত্রই কুমিল্লার স্থানীয় জনতা যোগ দেন। রোডমার্চে অংশ গ্রহণকারীদের সঙ্গে স্লোগান দেন, তনু হত্যার বিচার চেয়ে।
বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য এসময় ঘিরে রাখেন সবাইকে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা আলেখারচর পর্যন্ত সাতটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব স্থান হচ্ছে যথাক্রমে- ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, কাঁচপুর মোড়, দাঊদকান্দির গৌরিপুর বাসস্ট্যান্ড, চান্দিনায় দুটি, ময়নামতি ও আলেখারচর।


